
বুথ ফেরত সমীক্ষা মোদী সরকারের জয়ের ইঙ্গিত দিতেই লক্ষ্মীলাভ শিল্পপতি গৌতম আদানির।
শেষ আপডেট: 3 June 2024 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরাসরি হোক বা ঘুরিয়েপেঁচিয়ে, বর্তমান নরেন্দ্র মোদী সরকারের সঙ্গে শিল্পপতি গৌতম আদানির 'সুসম্পর্ক' নিয়ে কথা শোনাতে ছাড়েন না কেউই। বিরোধীরা প্রায়ই খোঁচা দেন, মোদী সরকারের আমলে শুধু আদানিরাই লাভবান হচ্ছে। বস্তুত, আদানি গোষ্ঠীর বৃদ্ধি যে গত দশ বছরে প্রায় আকাশ ছুঁয়েছে, এ'কথার প্রমাণ তাঁদের ব্যবসায়িক বৃদ্ধির হিসেবনিকেশই বলে দিতে পারে। আপাতত, বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফলে যা দেখা যাচ্ছে, সম্ভবত আগের চেয়েও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। যদিও ফল ঘোষণা হতে এখনও একদিন বাকি। বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফল সব সময় মিলে যায়, এমনও নয়। কিন্তু স্রেফ মোদী সরকারের ফেরার ইঙ্গিতেই তরতরিয়ে চড়তে শুরু করেছে আদানি গোষ্ঠীর শেয়ার।
বাণিজ্যমহলের খবর, বুথ-ফেরত সমীক্ষা প্রকাশের পর থেকেই আদানির শেয়ারের দাম চাঙ্গা হতে শুরু করেছিল। পর পর দুই সেশনে সেটি ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। স্টকের দাম বাড়ায় বাজারে মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে ২.৬ লক্ষ কোটি টাকা যোগ করেছে। আদানি গোষ্ঠীর অধীনস্থ সংস্থাগুলোর মধ্যে আদানি এন্টারপ্রাইজেসের শেয়ার বাড়ে ৭ শতাংশ, আদানি এনার্জি সলিউশন ৮ শতাংশ, আদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজেড বাড়ে ৯ শতাংশ, আদানি পাওয়ার বাড়ে ১২ শতাংশ, আদানি গ্রিন এনার্জি ৭ শতাংশ, আদানি টোটাল গ্যাস ৭ শতাংশ ও আদানি উইলমার বাড়ে ৩.৫ শতাংশ। আদানির অংশীদারি সংস্থা অম্বুজা সিমেন্টের শেয়ারের দামও ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
২০২৩ সালে হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসায় বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিল আদানিরা। এক ধাক্কায় পড়ে যায় গোষ্ঠীর শেয়ার। কোমর বেঁধে সংস্থাকে ঘুরে দাঁড় করাতে উঠেপড়ে লাগেন কর্তারা। ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে এক বছরের মধ্যেই হিন্ডেনবার্গ বিতর্ক সরিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয় আদানিরা। অন্তত তেমনটাই বলছেন বিভিন্ন বাণিজ্য সংস্থার কর্তারা। সর্বোপরি, রাজনৈতিক মহলের মতে, ভারতে বড় রকমের কর্পোরেট ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে গেলে সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা খুবই জরুরি। সেখানেই বাকিদের টেক্কা দিয়েছেন আদানিরা। বিরোধীরা বলেছেন, কেন্দ্রে মোদী সরকারের আশীর্বাদ ছায়ার মত আদানি গোষ্ঠীর মাথায় থাকায় কার্যত অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে আদানির ব্যবসা। হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টের পরে রীতিমত বিবৃতি জারি করে সিপিএম অভিযোগ করেছিল, খোদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আদানির সুসম্পর্কের ফলে দেশের কোনও রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ আদানির বিরুদ্ধে তদন্ত করতে সাহস পায় না। দাবি করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে তদন্ত হোক। কিন্তু শেষ অবধি কিছুই হয়নি। মোদী সরকারের ফের ফেরার ইঙ্গিতেই আবার আশায় বুক বাঁধছেন আদানির বিনিয়োগকারীরা।