দেশের অনেক জায়গাতেই ঘুরতে যাওয়ার যা খরচ, তা দিয়ে বা তার চেয়ে কম গাঁটের কড়ি খরচ করেই বেশ কয়েকটি দেশে ঘুরে আসা যায়। বহুদিন ধরে তাই অনেকেই সেই স্বাদ মিটিয়ে নিতে চাইছেন।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 2 February 2026 19:50
ভিন দেশে বেড়াতে যাওয়া কিংবা সেখানে শপিংয়ের পরিকল্পনা শুরু করে দিতে পারেন আগ্রহীরা। কারণ কেন্দ্রীয় বাজেটের (Union Budget 2026) প্রস্তাবে এবারে বিদেশ ভ্রমণের (Foreign trip) আগাম কর কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ট্রাভেল বুকিং (Travel Booking) বা শপিংয়ের জন্য আগে থেকে যে অতিরিক্ত কর দিতে হত, তা কমে যাবে। তাই ভ্রমণের খরচ মেটানোর পরও হাতে থাকবে কয়েক হাজার টাকা। বিদেশ ঘোরা বা কেনাকাটার পরিকল্পনা করা এখন আরও সাশ্রয়ী হবে।
দেশের অনেক জায়গাতেই ঘুরতে যাওয়ার যা খরচ, তা দিয়ে বা তার চেয়ে কম গাঁটের কড়ি খরচ করেই বেশ কয়েকটি দেশে ঘুরে আসা যায়। বহুদিন ধরে তাই অনেকেই সেই স্বাদ মিটিয়ে নিতে চাইছেন। তবে ডলারের সাপেক্ষে টাকার দাম বিপুল পড়ে যাওয়ায় সেই খরচ সাম্প্রতিককালে বেড়েছে। উপরন্তু বিমানভাড়া বাদে মোট খরচের উপরে আগাম কর ( Tax Collected at Source) দিতে হয় পর্যটকদের। রবিবার তাঁর বাজেট বক্তৃতায় সেই করের হার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (FM Nirmala Sitharaman)। ফলে বিদেশ যাওয়ার খরচ কিছুটা হলেও কমবে, বলছেন বিদেশি পর্যটন ব্যবসায় যুক্ত সংগঠন ট্র্যাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (TAAI) মতো সংগঠনের কর্তারা।
পাশাপাশি, আগাম করের এই অতিরিক্ত বোঝা এড়াতে অনেক পর্যটক সরাসরি বা অনলাইনে নিজেদের ভ্রমণসূচি (Travel Plan) বুক করতেন। ফলে দেশের পর্যটন সংস্থাগুলির (Travel and Tourism Company) বড় অংশ সেই ব্যবসা হাতছাড়া করত। এবার আগাম কর কমায় সেই হারানো বাজার অন্তত কিছুটা ফিরে পাওয়ার আশা দেখছে পর্যটন শিল্প। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরাসরি বুকিংয়ের তুলনায় কোনও ভরসাযোগ্য বা প্রতিষ্ঠিত ট্যুর-অপারেটরের মাধ্যমে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা অনেকটাই নিরাপদ- এই কারণেই করের বোঝা কমলে পর্যটকরা ফের সংস্থার উপর আস্থা রাখতে পারেন।
সোমবার টাইয়ের পূর্বাঞ্চলের চেয়ারম্যান অঞ্জনি ধানুকা (Anjani Dhanuka) জানান, টিসিএস হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনার ফলে বিদেশ ভ্রমণ এখন সাধারণ মানুষের আরও নাগালের মধ্যে আসবে। তিনি বলেন, আগে বিদেশ ভ্রমণের খরচের উপর দুটি আলাদা টিসিএস হার চালু ছিল-
এবার বাজেটে এই দুই হার বাতিল করে সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণের খরচে একটিই টিসিএস হার মাত্র ২ শতাংশ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
করের ভার গড়ে কতটা লাঘব হতে পারে?
তাঁদের হিসাবে, ১০ লক্ষ টাকার খরচের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ শতাংশ এবং ১০ লক্ষ টাকার বেশি খরচের ক্ষেত্রে প্রায় ৯০ শতাংশ কর সাশ্রয় হতে পারে। ৪ সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে কয়েকটি জায়গায় দিন পাঁচেকের জন্য ঘোরার খরচ এবং করের একটি গড় ও আনুমানিক খরচের খতিয়ান দিয়েছেন অঞ্জনি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা কিছুটা কম-বেশি হতেই পারে। কীরকম, দেখা যাক নীচের সারণিতে-
গন্তব্য মোট খরচ (বিমান ভাড়া বাদে) টিসিএস (আগে) টিসিএস (পরে)
থাইল্যান্ড ২ লক্ষ ১০ হাজার ৪ হাজার
দুবাই ২.৫ লক্ষ সাড়ে ১২ হাজার ৫ হাজার
ইউরোপ (৭-৮ দিন) ৭ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৪ হাজার
(খরচ ও টিসিএস, সব ভারতীয় টাকায়)
অর্থাৎ, তিনটি ক্ষেত্রে ওই হিসাবে গড়ে আগাম কর বাবদ সাশ্রয় হতে পারে যথাক্রমে ৬ হাজার, সাড়ে ৭ হাজার ও ২১ হাজার টাকা। অঞ্জনির দাবি, কর কমলে মধ্যবিত্তর বিদেশ ঘোরার পরিকল্পনায় পকেটের চাপ কিছুটা কমবে। ফলে পর্যটন বাড়বে। বিশেষ করে যখন ডলারের সাপেক্ষে টাকার দাম পড়ছে, তখন খরচ কিছুটা বাড়ে। সেই সময়ে কর বাবদ কিছুটা সাশ্রয় হলে সুবিধা হবে ভারতীয় পর্যটকদেরই (Indian Tourist)। তিনি জানান, তাঁদের সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সুনীল কুমার এই কর হ্রাসের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানাচ্ছিলেন।
সুনীল কুমার দিল্লি থেকে ফোনে জানান, যাঁরা আয়করের আওতায় পড়েন না, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে তাঁদেরই সবচেয়ে বেশি লাভ হবে। কারণ যাঁরা কর দেন, তাঁরা আগে যে টিসিএস (TCS) কাটা হয়, তা আয়কর রিটার্ন (Income Tax Return) দেওয়ার সময় অ্যাডভান্স ট্যাক্স হিসেবে সমন্বয় করতে পারেন। কিন্তু যাঁরা করদাতা নন, তাঁদের সেই সুবিধা থাকে না। ফলে এবার সরাসরি তাঁদের খরচ কমবে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, পর্যটকদের মোট খরচ প্রায় তিন শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
তবে সুনীল জানান, তাঁরা টিসিএস (TCS) একেবারে শূন্য করার আর্জি জানিয়েছিলেন। তা পূরণ না হলেও অন্তত কিছুটা কম হওয়ায় স্বস্তি পাবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় যুক্ত পর্যটন সংস্থাগুলি। না হলে পযর্টকেরা কড় এড়াতে সরাসরি বা অনলাইনে বিদেশি হোটেল বা পর্যটন সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে বুকিং করায় ব্যবসা হারাচ্ছিল এ দেশের পর্যটন শিল্পমহল। ঠিক একইভাবে জিএসটি-র জন্যও একই ভাবে সমস্যা পড়তে হয়েছে তাঁদের। তাই জিএসটি (GST) এবং টিসিএস (TCS), দুটিই এ ক্ষেত্রে প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছিলেন তাঁরা।
কবে থেকে কার্যকর হবে এই নতুন হার?
সাধারণত বাজাটের (Budget 2026) প্রস্তাব লাগু হয় ১ এপ্রিল থেকে। সেই আশায় রয়েছেন অঞ্জনিরা। তবে সুনীল জানান, তা সঠিক ভাবে জানতে চেয়ে কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে অঞ্জনি জানিয়েছেন, সাধারণত বিদেশ যাত্রার দিন সাতেক আগে পুরো খরচ মেটাতে হয় পর্যটককে। তার আগে দেওয়া টাকা আগাম হিসাবে জমা থাকে। ফলে এপ্রিল থেকে নতুন হার চালু হলেও এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করতে পারেন পর্যটকেরা। তার মধ্য বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে আশা পর্যটন মহলে।
অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির সংগঠন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটর্স (IATO)–এর প্রেসিডেন্ট রবি গোসাঁই কেন্দ্রীয় বাজেটে পর্যটন খাতকে গুরুত্ব দেওয়ায় স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, পর্যটন গাইডদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হসপিটালিটি তৈরির পরিকল্পনা, টিসিএস কমানো- এসবই ইতিবাচক পদক্ষেপ।
তবে তিনি একই সঙ্গে হতাশাও প্রকাশ করেছেন। কারণ, বিদেশি পর্যটকদের ভারত ভ্রমণে উৎসাহিত করতে যে বড়সড় প্রচার প্রয়োজন, তার জন্য বাজেটে আলাদা করে কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি। উল্লেখ্য, ভারতের জিডিপি-তে বিদেশি পর্যটকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের আরও বেশি করে দেশে আকৃষ্ট করার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।
তবুও, রবি গোসাঁই আশাবাদী। তাঁর বিশ্বাস, যেহেতু বাজেটে পর্যটন খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তাই আগামী দিনে বিদেশি পর্যটন প্রচারের জন্যও সরকার প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করবে।