
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 10 February 2025 09:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে ফের সরব হয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই দাবিতে রবিবার থেকে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করেছে ছাত্রদের ওই সংগঠন।
একাধিক সুত্রের খবর, ছাত্রদের ওই দাবি মেনে এবার পদক্ষেপ করতে চান ইউনুস। গত বছর অগাস্টে ক্ষমতায় আসার পর পরই শেখ হাসিনার দলকে নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান। এজন্য একটি অর্ডিন্যান্সের খসড়াও তৈরি করেছিল আইন মন্ত্রক। কিন্তু বিএনপি বেঁকে বসায় সে যাত্রায় সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায়নি বলে এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন ইউনুস। বিএনপি তখন বলেছিল, নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে আওয়ামী লিগ জনসাধারণের সমর্থন পেয়ে যেতে পারে। প্রকাশ্যে দলের এই অবস্থানের কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গত সপ্তাহে অন্তর্বর্তীসরকারের ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ সজীব ভুঁইয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সরকার আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বিএনপি সহ রাজনৈতিক দলগুলি আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার বিষয়ে এখন সরকারের পাশে আছে।
একাধিক সুত্র জানাচ্ছে, আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পথে সরকার ফের তৎপর হয় শেখ হাসিনা দলকে আন্দোলনে নামানো এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র লিগের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভাষণ দেওয়ায়। ছাত্র লিগকে দেশের সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠক এবং ভাষণ দিয়ে দেশদ্রোহিতা করেছেন বলে সরকারের একাধিক প্রভাবশালী সদস্যদের দাবি।
নিষিদ্ধ করার ভাবনা আরও জোরদার হয় গাজীপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মীদের আওয়ামী সমর্থকদের হাতে মার খাওয়ার ঘটনায়। ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে অপারেশন ডেভিল হান্ট নামে গ্রেফতারি অভিযান শুরু করেছে সরকার।
শনিবার রাত থেকে রবিবার বিকালের মধ্যে ১৩০৮ জনকে গ্রেফতার করেছে সেনা ও পুলিশের যৌথ বাহিনী। ধৃতদের নব্বুই ভাগই আওয়ামী সমর্থক বলে জানা গিয়েছে।
সুত্রের খবর, আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু করেছে সরকার। নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে বড় অভিযান শুরু করা হবে।
গত সপ্তাহে ঢাকায় শেখ মুজিবের বাড়ি ভাঙার ঘটনার পর বিএনপি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল এই ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার আরও অবনতি হতে পারে। যদিও সরকারের সুরেই বিএনপি ওই ঘটনার জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করে।তবে তারেক জিয়ার পার্টি চাইছে সরকার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক ও জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ করুক। সোমবারের বৈঠকে এই বিষয়ে কথা হবে। অন্যদিকে, ইউনুস চাইবেন আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে সরকারের পাশে থাকুক বিএনপি।
বিএনপি আরও নিশ্চিত হতে চাইছে গ্রেফতারি অভিযানে যেন দলের নেতা কর্মীদের গায়ে হাত না পড়ে। এই নিশ্চয়তা তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে আদায় করতে চান।
এদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, অবৈধ দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনুস সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ-কে নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ভারতের কলকাতার পার্ক হোটেলে আওয়ামী লিগের একটি সভা হয়েছে। সেই সভা থেকে নাকি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্দোলন ও ধ্বংসাত্মক কাজ পরিচালনার জন্য আওয়ামী লিগে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আওয়ামী লিগের এমন কোনও মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি এবং কাউকে সমন্বয়কের দায়িত্বও অর্পণ করা হয়নি। এমনকী যে হোটেলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেই হোটেলেও আমি কখনও যাইনি। শুধু আওয়ামী লিগের সম্মানহানি ও এই দলকে নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে ফ্যাসিস্ট ইউনুস সরকারের স্পন্সরে এ ধরনের মনগড়া ও ভিত্তিহীন গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে এবং সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশের জোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এ ধরনের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।