
শেষ আপডেট: 12 December 2023 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। খালেদা জিয়ার পার্টির একমাত্র দাবি, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট করাতে হবে। সরকার সেই দাবি মানেনি।
মনোনয়ন পত্র জমা, প্রত্যাহার পর্ব শেষে প্রতীক বণ্টনের মুখে জানা যাচ্ছে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়াতে পারে আর এক বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও। প্রয়াত সেনা শাসক হুসেইন মহম্মদ এরশাদের দল জাতীয় পার্টি মুখে বলছে, আওয়ামী লিগ আসন সমঝোতায় কথা না রাখায় তারা ভোট বয়কটের রাস্তায় হাঁটতে পারে।
যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের খবর বিএনপি'র মতো জাতীয় পার্টির উপরও বিদেশি, বিশেষ করে আমেরিকার চাপ আছে। নির্বাচন অংশগ্রহণ মূলক হয়নি দেখাতে দুই প্রধান বিরোধী দলকে ভোটের বাইরে রাখার চেষ্টা হচ্ছে বলে খবর।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা দলের সিনিয়র মন্ত্রী ও নেতাদের কাছে জাতীয় পার্টির মতিগতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন, এমন সম্ভাবনার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় পার্টির মধ্যে এমনিতেই এবার বিরাট গোলমাল চলছে। এরশাদ পত্নী রওশন এরশাদ দীর্ঘদিন কোণঠাসা। তিনিও বর্তমান সংসদে বিরোধী দলনেত্রী। তাঁকে এবার টিকিট দেওয়া হয়নি। টিকিট পাননি এরশাদ পুত্রও। খাতায় কলমে দলের সভাপতি জে এম কাদের। সম্প্রতি রওশন এরশাদ নিজেকে সভাপতি ঘোষণা করায় ওই দল আড়াআড়িভাবে ভেঙে গিয়েছে।
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর হাসিনা একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। সেখানে জাতীয় পার্টির প্রসঙ্গ ওঠে। হাসিনা বলেন, কিছুই অসম্ভব নয়। জাতীয় পার্টিও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। ওদের নিজেদের মধ্যে তীব্র গোলমাল চলছে।
সূত্রের খবর, বিরোধী দল হলেও জাতীয় পার্টি আওয়ামী লিগের কাছে তলে তলে ৩৫টি আসন দাবি করেছে। তারা বলেছে, ওই ৩৫ আসনে আওয়ামী লিগ বা তাদের নির্দল প্রার্থী থাকতে পারবে না।
এদিকে, নির্দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন পেশ ঘিরে বিবাদ শুরু হয়েছে আওয়ামী লিগেও। দল যাদের টিকিট দেয়নি তারা শেখ হাসিনার ছবি সামনে রেখে প্রচার শুরু করেছেন। বহু আসনে নির্দলরা প্রচারে দলীয় প্রার্থীকে টেক্কা দিচ্ছে। দুই পক্ষই আওয়ামীর প্রার্থী। এতে ভোটাররাও বিভ্রান্ত।
জানা গিয়েছে, সোমবারের বৈঠকে একাধিক নেতা-মন্ত্রী হাসিনাকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন দলের ডামি প্রার্থীদের অনুরোধ করেন তাঁর ছবি ব্যবহার না করতে।
কিন্তু আওয়ামী লিগ সভানেত্রী জানিয়ে দেন, তাঁর পক্ষে এমন কথা বলা সম্ভব নয়। কে প্রার্থী হবেন, প্রচারে কী বলবেন সেটা সম্পূর্ণভাবে তাঁর ব্যাপার। তিনি কোনওভাবেই হস্তক্ষেপ করবেন না। সব প্রার্থীকে লড়াই করে জিতে আসতে হবে। সরকার চায় অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন।
জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ ভোটে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। আওয়ামী লিগ নেতৃবৃন্দকে তারা বার্তা পাঠিয়েছে, অন্তত এমন ৩৫টি আসন তাদের ছেড়ে দেওয়া হোক, যেখানে আওয়ামী লিগের সরকারি এবং ডামি কোনও প্রার্থীই থাকবেন না।
প্রসঙ্গত, জাতীয় পার্টি আগের নির্বাচনে সরকারি জোটে থাকলেও এবার নেই। এবার সরকারিভাবে তারা বিরোধী দল হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। কিন্তু জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক অবস্থা যা তাতে দু চারটির বেশি আসনে জয়লাভ করাও কঠিন। সেক্ষেত্রে সংসদে বিরোধী দল বলে কিছু থাকবে না। সেই পরিস্থিতি আবার আওয়ামী লিগের জন্য মোটেই সুখকর হবে না। ফলে প্রয়াত সেনা শাসক এরশাদের পার্টি নির্বাচনে থাকবে কি থাকবে না তার উপর ভোটের আগে ও পরের অনেক কিছু নির্ভর করছে। হাসিনা আবার এবার অংশগ্রহণ মূলক ভোট নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।