
মহম্মদ ইউনুস
শেষ আপডেট: 3 September 2024 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ জুড়ে চলা প্রতিহিংসা, অরাজকতার ঘটনা বন্ধে অবশেষে পদক্ষেপ করল মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, চলমান অরাজক পরিস্থিতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার পর থেকে বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হওয়া নৈরাজ্যের একাধিক ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল নির্বিচারে মামলা। বিচার চাওয়ার নামে মামলা সন্ত্রাসের সবচেয়ে বড় শিকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধেও যারা আওয়ামী লিগের সাধারণ কর্মী-সমর্থক। সংখ্যালঘু নির্যাতনেও হাতিয়ার করা হয়েছে খুনের মামলাকে।
মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জন নিরাপত্তা বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে মামলা মানেই নির্বিচারে গ্রেফতার নয়। অর্থাৎ মামলাগুলির সত্যাসত্য বিচারে পুলিশকে আগে অনুসন্ধান করতে হবে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সেটি মামলাযোগ্য মনে হলে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য কাউকে গ্রেফতার করা যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লিগের সাবেক নেতা-মন্ত্রী, ব্যবসায়ী, সাধারণ সমর্থক থেকে শুরু করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দায়ের হয়েছে। ঢাকার ২৫জন প্রথিতযশা সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া খুনের মামলা নিয়ে শুধু দেশে নয়, বিদেশেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টার বিরুদ্ধে মুখ খুলে ইউনুস সরকারের কাছে প্রতিবাদ-পত্র পাঠিয়েছে।
সরকারের তরফে বলা হয়েছে, অতিউৎসাহী ও স্বার্থান্বেষী মহল পুলিশের উপর চাপ সৃষ্টি করে মামলা দায়ের করছে। এই ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না। বলা হয়েছে আদালত চত্বরে আসামিদের উপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক। এই ধরনের ঘটনাও কড়া হাতে মোকাবিলা করবে প্রশাসন।
বাংলাদেশে জোর করে শিক্ষক, সরকারি কর্মচারীদের পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে ৫ অগাস্টের পর। সরকারি মহলের খবর, শুধু শিক্ষাঙ্গনেই ১১ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষকের এই অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেকেই আত্মগোপন করে আছেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জোর করে পদত্যাগ, সিন্ডিকেটরাজ, চাঁদাবাজি, তোলাবাজি, টেন্ডারবাজি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সরকার দেশে ন্যায় ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।