
সুন্দরবনের মধু।
শেষ আপডেট: 8 July 2024 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের জিআই ট্যাগ পেয়েছে সুন্দরবনের মধু। অর্থাৎ ভারতের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এটি। এর পর থেকেই বাংলাদেশের বুক দুরুদুরু করা শুরু হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মৌ-চাষি ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এর ফলে এই পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হাতছাড়া হতে পারে সুন্দরবনের। প্রশ্ন উঠেছে, সুন্দরবনের মধু কী করে ভারতের জিআই ট্যাগ পেয়ে গেল আগে! কারণ, সুন্দরবনের আয়তন হোক বা সেখানে উৎপাদিত মধু-- সবদিক থেকেই এগিয়ে বাংলাদেশ। তাই সুন্দরবনের মধুতে বাংলাদেশের জিআই ট্যাগেরও দাবি উঠেছে সঙ্গে সঙঅগে। কারণ দুই দেশের ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য এই মধু।
জানা গেছে, ভারতের ট্যাগ আগে পেয়ে যাওয়ার ফলে দুই দেশের মধু রফতানিই প্রভাবিত হতে পারে। তাই বাংলাদেশের জিআই পণ্যের তালিকাতেও শিগগিরি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে সুন্দরবনের মধু।
সেই ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বাগেরহাটের জেলার তরফে সুন্দরবনের মধুকে জিআই পণ্য হিসেবে ট্যাগ করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। এত বছরে তার কোনও অগ্রগতি হয়নি। এবার ভারতের খবর পাওযার পরেই, সাত বছর আগে করা সেই আবেদন ফের পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করে, গত ৩০ জুন বাংলাদেশর সরকারি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। সেটি জার্নাল হিসেবে প্রকাশ করা হবে। তার দু'মাসের মধ্যে কোনও পক্ষের আপত্তি বা বিরোধিতা না পাওয়া গেলে, সুন্দরবনের মধুর গায়ে বাংলাদেশের জিআই ট্যাগও লেগে যাবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ভারত সুন্দরবনের মধুর জিআই ট্যাগ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিল ২০২১ সালে। ফলে পরে আবেদন করেও তারা আগে ট্যাগ পেয়ে গেল। ফলে বিশ্ববাজারে একদিকে যেমন এর চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হল, তেমনি দামও ভাল পাওয়া যাবে। যেই জায়গাটায় একটু হলেও বাণিজ্যিক ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে বাংলাদেশ।
কী এই জিআই ট্যাগ?
যদি কোনও একটি পণ্য উৎপাদনে কোনও দেশের পরিবেশ, আবহাওয়া ও সংস্কৃতি ভূমিকা রাখে, ভৌগোলিকভাবে ও ঐতিহ্যগতভাবে যদি সেই পণ্যে নিজস্বতার ছাপ পড়ে, তবে সেই পণ্যকে সেই দেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একরকম কপিরাইট বলা যেতে পারে একে, যা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনে (ডব্লিউআইপিও) উপস্থাপিত করা হয়।
প্রসঙ্গত, এপার বাংলার এমন অনেক পণ্যই আছে, যেগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের মিল রয়েছে। সুন্দরবনের মধু যেমন দু'পার বাংলারই, তেমনই ফজলি আম, নকশিকাঁথা, রসগোল্লা, জামদানি শাড়ি, গরদ শাড়ি-- এই সব পণ্যই ইতিহাস ও ভূগোলগত ভাবে দুই দেশের 'নিজস্ব'। এই জিআই ট্যাগ নিয়ে কিছুদিন আগে বিরোধেও জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ। টাঙ্গাইল শাড়ির সত্ব কার, তাই নিয়ে বাঁধে বিবাদ। ভারতের তরফে টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই স্বীকৃতি দেওয়া হলে বাংলাদেশ দাবি করে, এমনটা করা যাবে না। দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন ভারতের বিদেশ মন্ত্রককে এ বিষয়ে একটি চিঠিও দেয়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আইনি লড়াইয়েরও সূত্রপাত হয়। তাদের দাবি, বাংলাদেশের টাঙ্গাইল এলাকায় উৎপাদিত এই শাড়ি কেবল বাংলাদেশেরই নিজস্ব পণ্য। তাই ভারতের উদ্যোগ অন্যায্য।
এবার দেখার বিষয়, সুন্দরবনের মধুর জিআই ট্যাগ নিয়ে নতুন কোনও সমস্যা হয় কিনা।