
সংস্কারের আগে যশোরেশ্বরী কালী মন্দির যেমন দেখতে ছিল
শেষ আপডেট: 11 October 2024 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের যশোরেশ্বরীর কালী মন্দির থেকে চুরি যাওয়া সোনার মুকুটটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী মন্দিরের সেবাইত পরিবার। অন্যতম সেবাইত জ্যোতি চট্টোপাধ্যায় জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে দেখা গিয়েছে বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্দিরের কর্মীরা পুজো শেষে বাসন ধুতে গেলে বছর তিরিশের এক ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে। পরক্ষণেই সে বেরিয়ে যায়। মনে করা হচ্ছে ওই ব্যক্তিই মায়ের মাথায় থাকা মুকুটটি চুরি করেছে।
ওই মুকুটটিই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপহার দিয়েছিলেন। ২০২১-এর মার্চে যশোরের ওই প্রাচীন মন্দিরে পুজো দেন মোদী। মন্দিরটি বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থানের এক অনন্য নজির। সেখানে হিন্দুদের মতো মুসলিমরাও মানত করে থাকেন। আশা পূরণ হলে জোড়া সাদা পায়রা ওড়ানো এখানকার রীতি।
জ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া মুকুটটি অবশ্য সোনার নয়। তিনি যশোরে আসার আগে ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস থেকে আমাদের বলা হয়েছিল সেটি রুপোর তৈরি। তার উপর সোনার রং করা।
সেবাইত চট্টোপাধ্যায় পরিবার ঢাকায় থাকে। মুকুট চুরির খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে কৃষ্ণবাবুরা সপরিবারে যশোর রওনা হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রাচীন মন্দিরটির সঙ্গে আমাদের পরিবারের সম্পর্ক প্রায় আড়াইশো বছরের বেশি। বহুবার মন্দিরটির উপর হামলা হয়। ফলে বারে বারেই সংস্কার করতে হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে হিন্দুদের প্রধান তীর্থক্ষেত্র সতী পীঠ যশোরেশ্বর কালী মন্দির। সেখানে সতীর হাতের তালু পড়েছিল।
তাঁর কথায়, বহু বছর আগে মন্দিরের উপর হামলা হয়ে থাকলেও বিগত বহু বছর তেমন অপকর্মের নজির নেই। তার কারণ, এলাকার হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলেই এই মন্দির রক্ষায় সামনের সারিতে আছেন। মন্দিরে ভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রবেশে কোনও বাধা নেই। এলাকার সব মানুষ মন্দির রক্ষার কাজে যুক্ত। হালে কিছু মন্দিরের উপর হামলা হলেও যশোরেশ্বরী কালী মন্দিরে তেমন কিছু ঘটেনি।
যশোরের মন্দিরটির ইতিহাস থেকে জানা যায়, হিন্দু রাজা প্রতাপাদিত্য হাতের তালুর মতো দেখতে একটি পাথরখণ্ড খুঁজে পেয়েছিলেন। সেটি পাওয়ার পর তিনি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। আনাড়ি নামে এক ব্রাহ্মণকে মন্দির তৈরির দায়িত্ব দেন। প্রাচীন মন্দিরে একশোটি দরজা ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং দুবৃত্তদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির সংস্কার করে দেন প্রতাপাদিত্য, লক্ষ্মণ সেনরা। মূল মন্দিরের চেহারা এখন আর নেই।