
মঙ্গলবার ঢাকায় ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ইউনুস। রামকৃষ্ণ মিশন ডাক পেলেও আমন্ত্রণ জানানে হয়নি সংখ্যালঘুদের বৃহত্তম সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক পরিষদকে।
শেষ আপডেট: 5 December 2024 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা করে সে দেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে চিঠি দিলেন ভারতের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেশি, দিল্লির সাবেক উপরাজ্যপাল নাজিব জং, প্রাক্তন সাংসদ ও নইদুনিয়া কাজের সম্পাদক শাহিদ সিদ্দিকি, দেশের অবসরপ্রাপ্ত উপ সেনাপ্রধান লেফট্যান্যান্ট জেনারেল জামির উদ্দিন শাহ এবং শিল্পপতি শাহিদ মুস্তাফা শেরওয়ানি।
বৃহস্পতিবার ইউনুসকে লেখা চিঠিতে তাঁরা বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনায় মুসলিম হিসাবে আমরা লজ্জিত ও ব্রিবত বোধ করছি। ইসলাম কখনও এই ধরনের হিংসা অনুমোদন করে না। ইসলাম বরং সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাই শেখায়।
সিনিজেন্স ফর ফ্যাটার্নিটি নামে একটি সংগঠনের প্যাডে এই পাঁচ মুসলিম বিশিষ্টজন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে লিখেছেন সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনা বন্ধে সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ করুক। প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে থাকলে ধরে নিতে হবে চলমান হিংসায় সরকারের সায় আছে।
এই পাঁচ মুসলিম বিশিষ্টজনের মধ্যে এসওয়াই কুরেশি, নাজিব জং এবং শাহিদ সিদ্দিকি ভারতেও সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনাতেও নানা সময় মুখ খুলেছেন। বছর দুই আগে তাঁরা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে দেখা করে সংখ্যাগুরু সমাজের কাছে ভারতের সংখ্যালঘুদের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে এসেছিলেন।
সাবেক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেশি আমলার চাকরি করার পাশাপাশি ইতিহাস ও সমাজ নিয়ে গবেষণা করেছেন। ভারতে মুসলিমদের জনসংখ্যা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতে প্রকাশ করেছেন তাঁর গবেষণালব্ধ বই। তাতে সরকারি তথ্য তুলে দেখিয়েছেন, ভারতে মুসলিমরা মোটেই গণ্ডায় গণ্ডায় সন্তানের জন্ম দেয়নি। দেশের জন্ম নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাফল্যের পিছনে হিন্দু এবং অন্য ধর্মের পাশাপাশি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অবদান কম নয়।