ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 February 2025 23:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিতর্কিত ছবি পোস্ট করে সমালোচনার মুখে পড়লেও নিজের বক্তব্যে অনড় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রবিবার দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি শেখ হাসিনাকে ‘বাংলাদেশের কসাই’ এবং ‘গুমজননী’ বলেছেন।
শনিবার তিনি ফেসবুকে কয়েকটি ছবি পোস্ট করার পর সমাজমাধ্যমে অনেকেই তাঁর সমালোচনা করেন। সমর্থনও করেন বহু মানুষ। শনিবার ঢাকায় বাংলা অ্যাকাডেমি চত্ত্বরে শুরু হয়েছে একুশে বইমেলা। সেখানে রাখা অস্থায়ী ডাস্টবিনের গায়ে শেখ হাসিনার ছবি সাঁটা আছে। শফিকুল রহমান একটি ডাস্টবিনে তাঁর নোংরা টিস্যু পেপার ফেলার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। শনিবার বিকালে ছবি পোস্ট করার পর থেকেই দু-ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় সমাজমাধ্যমে। বহু মানুষ সমালোচনা করেছেন। অনেকে সঠিক ও সাহসী কাজ বলে প্রশংসা করেন।
সেই বিষয়েই রবিবার বিকালে দীর্ঘ পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, তিনি মনে করছেন ওই ছবি পোস্ট করে ভুল কিছু করেননি। তিনি লিখেছেন, আমার একুশে বই মেলা সম্পর্কিত ফেসবুক পোস্ট নিয়ে অনেক হইচই হয়েছে। তাই আমি ভাবলাম একবারে সবকিছু খুলে বলা উচিত। তাঁর কথায়, অন্তর্বর্তী সরকার শুধুমাত্র তার অংশীদারদের প্রতি নিরপেক্ষ। সেই অংশীদারেরা হল ছাত্র এবং সেই সব দল যারা শুধু গণ-অভ্যুত্থানের সময় নয়, বছরের পর বছর ধরে চুরি হওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে। স্বাভাবিকভাবে, অন্তর্বর্তী সরকার গণতন্ত্র চুরি করা দলের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে, যারা অমানবিক দুঃশাসন চাপিয়ে দিয়ে মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ এবং ১৫ বছর ধরে রাষ্ট্রের সম্পদ লুট করেছিল।
তাঁর কথায়, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হল, ‘বাংলাদেশে কসাই’ শেখ হাসিনাকে ঢাকা এনে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য বিচার করা। অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ এবং তাদের সহায়ক, চাটুকার, দোসরদের বিচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গণহত্যা, হাজার হাজার বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম এবং শত শত বিলিয়ন ডলার লোপাটের জন্য তাদের বিচারের মুখোমুখি করা আমাদের কর্তব্য।
তিনি লিখেছেন, আমরা প্রধান উপদেষ্টার মুখপাত্র হিসেবে সাধারণত অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রগতি এবং অর্জনগুলি সম্পর্কে অবহিত করে থাকি। আমরা শেখ হাসিনার চোরতন্ত্র এবং খুনতন্ত্র সম্পর্কে কথা বলি যাতে তা জনগণের মনে তাজা থাকে।
হাসিনাকে নিয়ে বিতর্কিত ছবি পোস্ট করায় তাঁর রুচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। জবাবে শফিকুল আলম লিখেছেন, কোনটা ভাল রুচি, কোনটা শিষ্টাচার, কে নির্ধারণ করবে? এগুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শেখ হাসিনা পৃথিবীর অন্যতম বর্বর এবং দুর্নীতিগ্রস্ত একনায়ক। আমি মানুষকে মনে করিয়ে দিতে কোনও সংকোচ বোধ করব না, যে তিনি কেমন হত্যাকারী এবং গুমজননী ছিলেন।
পোস্টে আওয়ামী লিগকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে শফিকুল রহমান লিখেছেন, ক্ষমতা হারিয়ে আওয়ামী লিগ গণ-অভ্যুত্থানের ভিন্ন আখ্যান তৈরি করছে। তারা বলতে চাইছে, জুলাই আন্দোলন ছিল ইসলামিক মৌলবাদী তৎপরতা। তারা আরও বোঝাতে চাইছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ কোনও হামলা করেনি এবং আওয়ামী লিগই আক্রান্ত হয়েছে। তারা এ জন্য কিছু শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় মিডিয়াকে ব্যবহার করছে, লিখেছেন তিনি।