
সাংবাদিক সম্মেলনে বৌদ্ধরা
শেষ আপডেট: 6 October 2024 23:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যারা হোটেল, গাড়ি বুক করেছেন সোমবারের মধ্যে তা বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটক যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি হবে ৮ অক্টোবর থেকে।
তিন জেলা প্রশাসন আলাদা করে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও কারণ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তবে মনে করা হচ্ছে, সেখানে সশস্ত্র জনজাতিদের বিরুদ্ধে সেনা বাহিনী অভিযান চালাবে। গতমাসে সেখানে একজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঙালি ও পাহাড়িয়া অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দারের রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনা গুলি চালাতে তিনজন পাহাড়িয়া নিহত হন। গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তি ছিলেন বাঙালি।
তখন থেকেই পাহাড়িয়া ও বাঙালিদের মধ্যে বিরোধ চলছে। রোজই ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে সেনাকে। নতুন জঙ্গি সংগঠন কুকি চিন (জনজাতি) ন্যাশনাল ফ্রন্টের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান চালাবে বলে মনে করা হচ্ছে। চলমান সংঘর্ষে ওই সংগঠন সক্রিয় বলে জানতে পেরেছে সেনা।
এদিকে, তিন জেলায় পর্যটকদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় প্রতিবাদে সরব হয়েতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বৌদ্ধরা। তারা প্রতিবাদে তাদের বাৎসরিক বস্ত্রদান উৎসব কঠিন চীবরদান উদযাপন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশ্বিন মাস জুড়েই ওই উৎসব চলে। পার্বত্য চট্টগ্রামে আশ্বিনী পূর্ণিমাকে প্রবারণা পূর্ণিমা বলা হয়। প্রবারণা পূর্ণিমার পর থেকে এক মাসের জন্য কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান শুরু হয়। এক মাস ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় দুশোর বেশি বৌদ্ধ বিহারে ধারাবাহিকভাবে কঠিন চীবর দান চলে।
ঘটনা হল, চট্টগ্রামের পাহাড়িয়ারা মূলত বৌদ্ধ। তাদের অভিযোগ, সেনা বাহিনী বাঙালি অর্থাৎ বহিরাগতদের পাহাড়িয়াদের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে। এমনকী মসজিদে হামলার কল্পিত অভিযোগ করে মামলা দেওয়া হচ্ছে পাহাড়িয়াদের বিরুদ্ধে।
বৌদ্ধরা সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাদের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব স্থগিত করার সিদ্ধান্তে অস্বস্তিতে পড়েছে ইউনুস প্রশাসন। হিন্দুদের পর এবার আর এক সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের উৎসবে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ তুলেছে।
উগ্র ইসলামপন্থীরা এবার দুর্গাপুজোকে টার্গেট করেছে। তাদের হুমকির মুখে বহু জায়গায় এবার পুজো হচ্ছে না। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনার সংহিসতার অনেক ঘটনা আড়াল করা হয়েছে। অক্টোবর মাস থেকে সেখানে পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হয়। দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গেলে সেনার অত্যাচারের ঘটনা চাপা থাকবে না বুঝেই বৌদ্ধদের উৎসবের মাসে পর্যটকদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হল, বলছে স্থানীয় একাধিক সূত্র।
রবিবার রাঙামাটির বনরূপা মৈত্রী বিহারে সাংবাদিক সম্মেলনে উৎসব স্থগিতের কথা ঘোষণা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত ভিক্ষু সংঘের সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের। তাঁর বক্তব্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক হিংসা বৌদ্ধ বিহারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্রিসংযোগসহ শতাধিক ঘটনা ঘটে। চারজন নিহত হন। আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। বৌদ্ধদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বারে বারে ঘটলেও প্রশাসন হাত গুটিয়ে থাকছে।
ভদন্ত মহাথের বলেন, চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সমাজ ও ভিক্ষু সংঘ আসন্ন পবিত্র ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে তিন পার্বত্য জেলার ১৫ বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।