১৭ নভেম্বর সোমবার খাজা ঘোষণা করবে ওই ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার সাজার দিন ঘোষণাকে সামনে রেখে আওয়ামী লিগ ঢাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারাদিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করে। দেশবাসীকে তারা আর জে জানায় শেখ হাসিনাকে দুটি শপথ তো করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দিন রাজধানীর মানুষ যেন বাড়ি থেকে না বের হন। এইভাবে সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছিল শেখ হাসিনার দল।

শেষ আপডেট: 13 November 2025 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঢাকায় আওয়ামী লিগের বৃহস্পতিবারের লকডাউন যে সফল হয়েছে তা একপ্রকার মেনেই নিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার বেলা দুটোয় প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন জনগণ প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ শোনার জন্য ঘর থেকে বের হয়নি। এইটাকে স্বৈরাচারের লকডাউনের সফলতা বলে প্রচার করছে অনেকে। প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ রেডিও ও টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছেন। রফিকুল আলমের বক্তব্য প্রসঙ্গে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যদি প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ শুনতেই মানুষ ঘরে বসে থাকবে তাহলে ঢাকা বাদে বাকি বাংলাদেশে কেন তারা ঘরে বসে থাকল না?
বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাজা ঘোষণা দিন জানিয়েছে। ১৭ নভেম্বর সোমবার খাজা ঘোষণা করবে ওই ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার সাজার দিন ঘোষণাকে সামনে রেখে আওয়ামী লিগ ঢাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারাদিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করে। দেশবাসীকে তারা আর জে জানায় শেখ হাসিনাকে দুটি শপথ তো করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দিন রাজধানীর মানুষ যেন বাড়ি থেকে না বের হন। এইভাবে সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছিল শেখ হাসিনার দল।
রাজনীতি মহলে কৌতুহল ছিল এই কর্মসূচি কতটা সফল হবে। বুধবার বিকেল থেকেই তার পরিস্থিতির যে আমল পরিবর্তন হতে শুরু করে তাতে স্পষ্ট ছিল বৃহস্পতিবার লকডাউনে রাজধানীর জনজীবন অনেকটাই অচল হয়ে পড়বে। বৃহস্পতিবার অফিস টাইম অর্থাৎ ব্যস্ত সময়ে ঢাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা ছিলের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। পথে যানবাহন ছিল কম লোকজনও খুব কম বেরিয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃহস্পতিবার অনলাইন ক্লাস হয়েছে। ফলে সেগুলি দরজা বন্ধ ছিল অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাজিরা ছিল অন্যদিনের তুলনায় অনেক কম। সকালে ঢাকার অধিকাংশ জায়গায় সাধারণ মানুষের তুলনায় পুলিশ ও সেনার উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় লকডাউনের পাশাপাশি সারা বাংলাদেশ জুড়ে একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। বাসে, গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় এবং অন্যান্য অফিস ও দোকানে আগুন দেওয়া হয়। ঢাকামুখি রাস্তায় অবরোধ করে অচল করে দেয়। সেনা ও পুলিশের পাশাপাশি বেশ কিছু জায়গায় জামাত-ইসলামি এবং বিএনপি সমর্থকরা আওয়ামী লিগের মোকাবিলায় পথে নামে। বেশ কয়েকটি জায়গায় পুলিশ ও আওয়ামী লিগের সমর্থকদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।