বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা করার দাবিতে স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর একাংশ থানা ঘেরাও করে।

শেষ আপডেট: 24 June 2025 22:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তের জেলা লালমনিরহাটের হানিফ পাগলার মোড়ে উত্তেজিত জনতার হাতে আক্রান্ত হয়েছেন পরেশ চন্দ্র শীল (৬৯) ও তাঁর ছেলে বিষ্ণু চন্দ্র শীলের (৩৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাঁদের প্রথমে উদ্ধার করে। পরে ইসলামের নবী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে পুলিশ ওই বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছে।
ওই ঘটনায় স্থানীয় থানার ওসি মহম্মদ নুর নবীর একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা করার দাবিতে স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর একাংশ থানা ঘেরাও করে। ওসি নুরনবীকে ক্ষিপ্ত জনতার সামনে বলতে শোনা যায়, 'ওসি হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আমার। কিন্তু যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা আমারও কলিজায় আগুন লেগেছে। আপনাদের মতো চোখে পানি আমারও এসেছে। কীভাবে এত বড় ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এ দেশে করে। আমি আপনাদের ওয়াদা দিলাম। আমি তাদের যখন অ্যারেস্ট করেছি, এমন মামলা তাদের দেব, নিশ্চিত তাদের যেন যাবজ্জীবন বা ফাঁসি হয়...।’ মারধরের ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি।
ওসির এই বক্তব্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ ওসির মন্তব্যের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। তাঁর শাস্তি দাবি করেছেন বহুজন। সমালোচনার মুখে ওসির বক্তব্য, পরিস্থিতি শান্ত করতে ওই কথা বলেছিলাম। অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।
হানিফ পাগলার মোড়ে পরেশচন্দ্র ও তাঁর ছেলে বিষ্ণু একটি সেলুন চালান। গত শুক্রবার এক তরুণ সেলুনে চুল কাটাতে গেলে বাবা ছেলে মুসলিমদের বড় দাড়ি রাখা নিয়ে কটুক্তি ও নবী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও সেলুনে গিয়ে বাবা-ছেলের উপর হামলার ঘটনাটি ঘটে রবিবার। হামলার ঘটনার আগে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ নিয়ে থানায় কোনও মামলা হয়নি। অভিযোগ আক্রান্ত পরেশ চন্দ্র ও তাঁর ছেলেকে থানায় নেওয়ার ওর মারধরের ঘটনা নিয়ে এফআইআর করার আগে পুলিশ প্রথমে ধর্ম অবমাননার মামলা ঠুকে আক্রান্ত বাবা ছেলেকে গরাদে আটক করে।

আক্রান্ত বাবা-ছেলে এখন কারাগারে
আরও আশ্চর্যের হল ধর্ম অবমাননার মামলাটি করেছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম। যদিও তিনি সেদিন সেলুনে যাননি। তাঁর বক্তব্য, নবীর অবমাননার অভিযোগে মামলা করার অধিকার তাঁর আছে।