
নরেন্দ্র মোদী ও মহম্মদ ইউনুস
শেষ আপডেট: 18 December 2024 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজয় দিবস নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পোস্ট নিয়ে কূটনৈতিক মাধ্যমে 'প্রতিক্রিয়া' দেবে বাংলাদেশ সরকার। সে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, 'নরেন্দ্র মোদী তাঁর কথা বলেছেন। আমরা আমাদের কথা বলব।'
হোসেন শব্দ চয়নে সাবধানী কূটনীতিক হিসাবে পরিচিত হোসেন 'প্রতিক্রিয়া' বলতে আসলে প্রতিবাদের কথাই বলতে চেয়েছেন বলে বাংলাদেশ সরকারের কর্তারা জানাচ্ছেন। দেশের বিদেশ সচিবের দায়িত্ব পালন করা হোসেন বহু কলকাতায় বাংলাদেশের উপ হাই কমিশনার ছিলেন।
গত সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, ইউনুস সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল-সহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের পুরো কৃতিত্ব ভারতীয় সেনা বাহিনীকে দিয়েছেন। হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অস্তিত্বই স্বীকার করতে চাননি। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্য, ছিল, মুক্তিযুদ্ধ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিজয় অর্জন করেছে। ভারতীয় সেনা তাতে সাহায্য করেছে মাত্র। কোনও অবস্থাতেই সেটা ভারতের যুদ্ধ ছিল না। ফলে ভারতের বিজয়ের প্রশ্নও আসে না।
প্রধানমন্ত্রী সোমবার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, বিজয় দিবসে, সেই নির্ভীক সেনাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগকে আমরা সম্মান জানাই, যারা ১৯৭১ সালে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ে প্রশংসনীয় অবদান রেখেছিলেন।'
প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, 'সেনাদের দৃঢ় সংকল্প ও নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ জাতিকে করেছে সুরক্ষিত এবং বয়ে এনেছে গৌরব। তাঁদের অসামান্য বীরত্ব ও অবিচল মনোবলের প্রতি সম্মান জানাতেই আজকের দিন স্মরণ করি।'
Today, on Vijay Diwas, we honour the courage and sacrifices of the brave soldiers who contributed to India’s historic victory in 1971. Their selfless dedication and unwavering resolve safeguarded our nation and brought glory to us. This day is a tribute to their extraordinary…
— Narendra Modi (@narendramodi) December 16, 2024
প্রধানমন্ত্রী সেদিন আরও লিখেন, 'তাদের আত্মত্যাগ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা যোগাবে এবং ইতিহাসে তা স্থান করে নিয়েছে।'
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সেদিন লেখেন, 'যখন এই স্বাধীনতাকে ভারত নিজেদের অর্জন হিসেবে দাবি করে, তখন আমি একে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখি।'
যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদী বিজয় দিবস নিয়ে নতুন কোনও কথা সেদিন বলেননি। প্রতিবারই ভারতের প্রধানমন্ত্রীরা ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ভারতের শহিদ সেনা সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেন তাঁদের অবদান। সেই পুরনো ও চেনা প্রতিক্রিয়া নিয়েই জলঘোলা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, জমানা বদলই এর একমাত্র কারণ। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও তাদের সহযোগীরা কার্যত পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন যেমন জানিয়েছেন, ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সোমবার তাঁকে ফোনে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারপরও বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের আপত্তি নিয়ে বিস্মিত ভারত। দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রক মনে করছে, ইউনুস সরকার অপ উদ্দেশ্য ভারতের সঙ্গে সংঘাতের নতুন রাস্তা খুলতে চাইছে। গত ৯ ডিসেম্বর ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রির ঢাকা সফরে যে সৌহার্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল তা বিনষ্ট হতে চলেছে ঢাকার প্রতিক্রিয়ায়।
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মাটিতে ভারতীয় সেনার অবদানের কথা স্বীকার করে সে দেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। তা নিয়ে বাংলাদেশেই বহু নাগরিক সমাজমাধ্যমে ইউনুসের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনা, সে দেশের সরকার ও জনগণের অবদানের কথা স্বীকার করা উচিত ছিল ইউনিসের।