
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 21 March 2025 23:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে (Bangladesh) নতুন পরিস্থিতি, নয়া সমীকরণ। সাড়ে সাত মাস আগে যে মহম্মদ ইউনুসকে (Md Yunus) অভ্যুত্থানকারী (mass upsurge) ছাত্ররা বাংলাদেশে পরিবর্তনের দূত বলেছিল, শুক্রবার তাঁর কঠোর সমালোচনা করেছে তারা। যে সেনাবাহিনী (Bangladesh army) হাসিনা বিরোধী অভ্যুত্থানের সময় ছাত্রদের পক্ষ নিয়ে হাত গুটিয়ে ছিল তাদের সঙ্গেই বাহিনীর মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেনাবাহিনী রাজনীতিতে অনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করছে বলে সাবেক ছাত্র নেতৃত্ব (students leadership) তথা জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃত্ব শুক্রবার অভিযোগ করেছে। সেনাবাহিনীরকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা করেছে ছাত্ররা।
নতুন পরিস্থিতি তৈরির কারণ আওয়ামী লিগকে (Awami League) নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস (Md Yunus) এবং সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের ( General Wakar Uz Zaman) অবস্থান৷ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার (chief advisor) সঙ্গে দেখা করে ওয়াকার উজ জামান সাফ জানিয়ে দেন, যত দ্রুত সম্ভব দেশে নির্বাচন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লিগকে নিয়েই দেশে নির্বাচন করতে হবে।
সেনাপ্রধানের কঠোর অবস্থানের মুখে বৃহস্পতিবার রাতেই ইউনুস জানিয়ে দেন, আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই।
প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণার পরই অভ্যুত্থানকারী ছাত্র নেতৃত্ব যারা এখন জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠন করেছে, তাদের অনুগামীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (Dhaka University) সহ একাধিক শিক্ষাঙ্গনে আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে মিছিল করে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (National Citizens party) নেতৃত্ব সাংবাদিক বৈঠক করে। সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আওয়ামী লিগকে নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় ইউনুসের তীব্র সমালোচনা করেন। বলেন, আমরা আওয়ামী লিগকে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের নিন্দা জানাই।
সেই সাংবাদিক বৈঠকেই জাতীয় নাগরিক পার্টির আর এক নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ( Hasnat Abdullah) দাবি করেন, আওয়ামী লিগকে ফেরাতে সেনাবাহিনীর একাংশ তাদের উপর চাপ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বরিশালে জাতীয় নাগরিক পার্টির মিছিল থেকে সেনাবাহিনীর মুণ্ডপাত করে স্লোগান দেওয়া হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির এক নেতা ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদের উদ্দেশে ঘোষণা দেন, ক্যাম্পাসে যেন সেনাবাহিনীকে ঢুকতে না দেওয়া হয়।
এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামি এবং হেফাজতে ইসলামের মতো উগ্র দলগুলিও হুঁশিয়ারি দিয়েছে আওয়ামী লিগকে ফেরানো হলে দেশে রক্ত বইবে। তারাও সরকার ও সেনাবাহিনীকে নাম না করে হুশিয়ারি দিয়েছে।