
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 25 November 2024 08:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিন ধরে ঢাকায় প্রথমসারির দুটি সংবাদপত্রের অফিসের সামনে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে। রবিবার দিনভর ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় ‘প্রথম আলো’ খবরের কাগজের সামনে বিক্ষোভ করে একদল লোক। তারা সেখানে গরু জবাই করার চেষ্টা করে। পুলিশ সরিয়ে দিলে অদূরে প্রকাশ্য রাস্তায় গরু জবাই করা হয়।
এর আগে শুক্র ও শনিবার ঢাকার ইংরিজি সংবাদপত্র ডেইলি স্টারের দফতরের সামনের রাস্তায় নমাজ পাঠ করেন একদল লোক। পুলিশ থাকলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। দুটি খবরের কাগজই একই মালিক গোষ্ঠীর। তাদের ভারতের দালাল তকমা দিয়ে দিনভর বিক্ষোভ করে একদল উশৃঙ্খল লোক। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে সোমবার থেকে গরু জবাইয়ের মাধ্যমে ভারত বিরোধিকার কার্যক্রম চলবে।
রবিবার সন্ধ্যায় ব্যস্ত কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রথম আলো-র দফতরের সামনে পরিস্থিতি চরম আকার নিলে সেনা-পুলিশের যৌথ বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। তারা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। কিন্তু তিনদিন ধরে দেশের রাজধানীতে দুটি সংবাদপত্র অফিসের সামনে এমন বিশৃঙ্খলতা কীভাবে চলতে পারল সেই প্রশ্ন উঠেছে। সন্ধ্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করলে পুলিশ ও সেনা কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড চার্জ করে। তুমুল সংঘর্ষ বেঁধে গেলে পথচলতি মানুষ দিশেহারা হয়ে পালাতে শুরু করে। দোকান-বাজার বন্ধ করে দেওয়া হয়। অদূরে মেট্রো রেলের গেটও বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। অফিস ফেরত বহু যাত্রী মেট্রো স্টেশনের ভিতরে ও বাইরে আটকে পড়েন। প্রসঙ্গত, রবিবার বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ কাজের দিন। সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি শক্রি ও শনিবার।
হামলা, বিশৃঙ্খলার কারণ নিয়ে সংবাদপত্র দুটি সরকারিভাবে কিছু না জানালেও বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ওই দুই খবরের কাগজ ভারতের দালাল। ভারতের দালালদের বাংলাদেশে স্থান নেই। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেরও বিরোধিতা করে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, বাংলাদেশকে ভারতের উপনিবেশ বানাতে মুক্তিযুদ্ধ ছিল দিল্লির ষড়যন্ত্র।
যদিও ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, হাসিনা জমানার তীব্র সমালোচক বলে পরিচিত ওই খবরের কাগজ দুটি বর্তমান সরকারেরও নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে জিনিজপত্রে দাম এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তারা ইউনুস সরকারের ভুল পদক্ষেপ নিয়ে সরব হয় তাদের প্রতিবেদন এবং নানা নিবন্ধে। শেখ মুজিবুর রহমানকে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলার বর্তমান সরকারের কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পত্রিকা দুটি।
সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা, সরকারি পরিচয়পত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও তারা সরব। যদিও হাসিনা বিরোধী গণ অভ্যুত্থানের সপক্ষে দাঁড়িয়ে পত্রিকা দুটি নজির স্থাপন করে। বাংলাদেশে সাংবাদিক মহল মনে করছে, প্রথমসারির পত্রিকা দুটিকে ভয় দেখিয়ে শাসক গোষ্ঠী দেশের গোটা সংবাদমাধ্যমকেই সরকারের সমালোচনা না করার বার্তা দিতে চাইছে। ভারতের দালাল তকম দিয়ে বিক্ষোভকারীরা আসলে নিজেদের অপকর্মকে মান্যতা দিতে চাইছে।