Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ ৩৩ বছর পর মুখোমুখি ইজরায়েল-লেবানন! ওয়াশিংটনের বৈঠকে কি মিলবে যুদ্ধবিরতির সমাধান?ইউরোপের আদালতে ‘গোপনীয়তা’ কবচ পেলেন নীরব মোদী, জটিল হচ্ছে পলাতক ব্যবসায়ীর প্রত্যর্পণ-লড়াইইরানের সঙ্গে সংঘাত এবার শেষের পথে? ইঙ্গিত ভ্যান্সের কথায়, দ্বিতীয় বৈঠকের আগে বড় দাবি ট্রাম্পেরওIPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিত

বাংলাদেশে 'মবের মুলুক', ২ মাসে নিহত ২৫, মামলা দু-একটি, গ্রেফতার হাতেগোনা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস দু’বার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। প্রতিবারই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা দাবি করলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই।

বাংলাদেশে 'মবের মুলুক', ২ মাসে নিহত ২৫, মামলা দু-একটি, গ্রেফতার হাতেগোনা

বাংলাদেশ পুলিশ।

শেষ আপডেট: 3 October 2024 12:23

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘মবের মুলুক’ কথাটি বাংলাদেশে এখন মুখে মুখে ঘুরছে। উন্মত্ত জনতা তথা মবের ভয়ে সিঁটিয়ে আছে সে দেশের মানুষ।

বুধবার রাতে দেশটির বন্দর শহর চট্টগ্রামের পার্বত্য এলাকার জেলা খাগরাছড়িতে একজন স্কুল শিক্ষককে স্কুলেই পিটিয়ে মেরে ফেলে স্থানীয় জনতা। মারধরে যুক্ত ছিল পড়ুয়া এবং অভিভাবকেরাও। শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ও সেনা বাহিনী গেলেও জনতার হাত থেকে এই শিক্ষককে রক্ষা করতে পারেনি। অভিযোগ, সেনা ও পুলিশ হত্যা আটকানোর যথেষ্ট চেষ্টা করেনি।

রেহাই পাচ্ছে না সেনাও। চট্টগ্রামেই সমাজমাধ্যমে ইসলাম অবমাননার পোস্ট দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে পুলিশ অভিযোগ পাওয়া মাত্র গ্রেফতার করে। তারপরও উন্মত্ত জনতা থানা ঘেরাও করে অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। খবর পেয়ে সেনা বাহিনী গেলে জনতা তাদের উপর চড়াও হয়। সেনার একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। এক সেনা অফিসার ও চালককে জ্বলন্ত গাড়িতে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়।

 গত সপ্তাহে কক্সবাজারে অভিযানে যাওয়া এক সেনা কর্নেলকে উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে, কুপিয়ে খুন করে। তদন্তে জানা যায় মূল হত্যাকারী ৫ অগাস্টের পর জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক খুন ও ডাকাতির অভিযোগ জামিন পাওয়ায় তখনই প্রশ্ন উঠেছিল। মহম্মদ ইউনুসের প্রশাসন কোনও জবাব দেয়নি। বেআইনিভাবে জামিন পাওয়া দুষ্কৃতীর হাতে বছর তেইশের কর্নেলের মৃত্যুতে সেনা বাহিনীতেও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

খগরাছড়ির ঘটনাটি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের গত দু-মাসে বাংলাদেশে জনতার হাতে মৃত্যু হয়েছে ২৫জনের। মৃতরা কেউই চোর-ডাকাত নয়। বেশিরভাগেরাই আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মী, পুলিশ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। গণ পিটুনিতে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে পুলিশের একটি অংশের মত।

 ঘটনা হল, দু-চারটি ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত হয়নি। কারণ সে দেশে এখনও বহু থানা অচল। সেনাকে ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা দেওয়া হলেও তারা মামলা গ্রহণ করছে না। ফলে হাতেগোনা কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ জুড়ে ‘মব জাস্টিস’ শুরু হয়ে গিয়েছিল। তা শুধু গণভবনে লুটপাট, মুজিবের বাড়ি ও মূর্তি ভেঙেই খান্ত থাকেনি, আইন হাতে নিয়ে আওয়ামী লিগ সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের পিটিয়ে মারা, ঘরবাড়ি, দোকান, অফিসে আগুন দেয়। একাধিক সূত্রের খবর, ৫-৬ অগাস্ট রোষের শিকার হয় পুলিশও। প্রায় শতাধিক পুলিশকে পিটিয়ে, গুলি করে, গায়ে পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে হত্যা করা হয়। তারপর থেকেই কাজে যোগ দেওয়া বন্ধ করে দেয় পুলিশ। সরকারিভাবে অবশ্য হামলায় মৃত পুলিশে সংখ্যা ৪৩ বলে জানানো হয়েছে।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কিছু পুলিশকে কাজে যোগদান করানো সম্ভব হলেও এখনও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব সেনার হাতে। কিন্তু অতীতের মতো সেনা যথেষ্ট সক্রিয় নয় বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনায় সেনা বাহিনী নিষ্ক্রিয় থাকছে বলে বিভিন্ন মহল সরব।

অখণ্ড বাংলায় একটা সময় পর্তুগিজ আর মগ জলদস্যুরা লুটপাট চালাত। মগ বলা হত বাংলাদেশে লাগোয়া মায়ানমারের আরাকান প্রদেশের বাসিন্দাদের, যারা এখন রোহিঙ্গা নামে পরিচিত। মগেরা যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াত। সেখান থেকে ‘মগের মুল্লুক’ কথাটির জন্ম। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজের বড় অংশের মত হল দেশের চলতি পরিস্থিতি অনেকটাই ‘মগের মুল্লুকে’ পরিণত হয়েছে।

রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর পরই শুরু হয়েছিল পিটিয়ে মারার মব জাস্টিস ব্যবস্থা। এমনকী ধৃতদের আদালত প্রাঙ্গন থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, সেনা-পুলিশের সামনে মারধরের মব জাস্টিস চলতেই থাকে। সেই থেকে ‘মব জাস্টিস’ কথাটি তখন দেশবাসীর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

 বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশি কেন্দ্র (আসক)-এর রিপোর্ট বলছে, সে দেশে ২০১১-থেকে ’১৮-র মধ্যে ৮০০ নাগরিক গণপিটুনিতে মারা গিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, অশ্লীল কাজে যুক্ত থাকার সত্য-মিথ্যা অভিযোগ ছিল। ২০১৮-র পর গণপিটুনির শিকার হন আরও ২৮৬জন। নিহতরা কেউ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী নয়। এ বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ঢাকায় ১৬জন-সহ মোট ৩৮জন গণহত্যার শিকার হয়েছেন। পরের দুই মাসে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫।

 এরমধ্যে ঢাকা ও জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম শহরের ঘটনা তিনটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হস্টেলে আওয়ামী লিগের ছাত্র শাখা ছাত্র লিগের এক নেতাকে মোবাইল চোর অপবাদ দিয়ে ধরে এনে একদফা মারধর করা হয়। বেশি রাতে তাঁকে ক্যান্টিনে মাছ-ভাত খাওয়ায় খুনি ছাত্ররা। তারপর দফায় দফায় মেরে ভোর রাতে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘুমোতে যায় উন্মত্ত ছাত্ররা।

 অন্যদিকে, জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে উপাচার্যের অফিসের সামনে ছাত্র লিগের সাবেক সভাপতিকে দফায় দফায় মেরে হত্যা করা হয়। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় গোটা বিশ্ব নিন্দায় মুখর হলে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় পুলিশ যে ছয়জনকে গ্রেফতার করে তাদের দুইজন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা, এমনকী একজন অন্যতম সমন্বয়ক। বাকি চারজন বিএনপি-র ছাত্র সংগঠন ছাত্র দলের নেতা।

 চট্টগ্রামে একটি ব্যস্ত রাস্তার পুলিশ স্ট্যান্ডে এক ব্যক্তিতে চোর অপদান দিয়ে পিটিয়ে মারার সময় ছাত্ররা তারস্বরে বাজনা বাজায়, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির আর্তনাদ কেউ শুনতে না পায়। মৃত্যু নিশ্চিত করার পর পথচলতি জনতাকে ধরে এনে মৃতদেহের সঙ্গে সেলফি তুলতে বাধ্য করে খুনি ছাত্ররা।

 অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস ইতিমধ্যে দু’বার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। প্রতিবারই তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা দাবি করলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। ১৫ জুলাই থেকে সেনা বাহিনী ময়দানে আছে। তাদের পুলিশের মতো ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তারা গ্রেফতার, কিছু ক্ষেত্রে বিচারও করতে পারবে। কিন্তু ব্যবস্থা না নিয়ে সেনা ভালমানুষি করছে বলে ইতিমধ্যে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

মহলের বক্তব্য, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারে সেনা লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গণহত্যা, গণ বিশৃঙ্খলা আটকাতে তারা নিষ্ক্রিয়। অভিযোগ পেয়েও তারা সময়মতো ঘটনাস্থলে যাচ্ছে না। মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি গণহত্যার ঘটনাগুলি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যু ঠেকানো যেত, পুলিশ ও সেনা সময়মতো অকূস্থলে গেলে।


```