
শেষ আপডেট: 24 September 2024 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশে প্রতিবাদ আন্দোলন অব্যাহত। রোজই ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বরিশালের মতো বড় শহরগুলিতে বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বের নানা প্রান্তে সংখ্যালঘুদের নিপীড়নের প্রতিবাদে জনমত তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের নোবেল শান্তি পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার দাবিতে বিশ্বব্যাপী প্রচার শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে ইউনুস এখন নিউ ইয়র্কে আছেন। সেখানে তাঁর হোটেলের বাইরে তুমুল বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয় বাংলাদেশিরা পোস্টার, ব্যানার হাতে হোটেলের বাইরে জড়ো হয়ে স্লোগান তোলেন, ‘ইউনুসের দুই গালে, জুতো মারো তালে তালে’, ইউনুসের চামড়া, তুলে নেব আমরা’। সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, ইউনুসের সরকার বেআইনি এবং অসাংবিধানিক।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বৃহত্তম সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গত সপ্তাহে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে বিশদ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ৪ অগাস্ট রাত থেকে ২০ অগাস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ২০১০টি ঘটনা ঘটেছে। হত্যা করা হয়েছে নয়জনকে। বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ১৮০০টির বেশি। ছয়শোর বেশি দেবালয়ে হামলা করা হয়েছে।
হামলার পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু প্রতিবাদী মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ভুক্তভোগীদের অন্যতম বাংলাদেশের প্রথমসারির আইনজীবী তথা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ৭৭ বছর বয়সি রানা দাশগুপ্ত। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়িতে একটি খুনের সঙ্গে যুক্ত থাকার মামলা দেওয়া হয়েছে।
রানা দাশগুপ্ত যুদ্ধপরাধিদের বিরুদ্ধে মামলায় সরকারের অন্যতম আইনজীবী ছিলেন। তাঁর সওয়ালের জেরে একাধিক যুদ্ধাপরাধির মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন সাজা হয়। দোষী সাব্যস্তরা সকলেই ছিল জামায়াতে ইসলামির সমর্থক। ঐক্য পরিষদ মনে করে, মামলার বদলা নিতেই জামাত প্রবীণ আইনজীবীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করিয়েছে।
অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রামে জনজাতিদের উপর সেনা ও পুলিশের নির্যাতনের ঘটনা নিয়েও সরব হয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তের সংগঠন। চেঞ্জ ডট ওআরজি-তে মহম্মদ মামুন নামে এক ব্যক্তি সংখ্যালঘু এবং জনজাতিদের উপর নির্যাতনের ঘটনার জন্য মহম্মদ ইউনুসকে দায়ী করে তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার দাবিতে প্রচার শুরু করেছেন। সেই দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ইউনুসের বিরুদ্ধে প্রচারে শামিল হয়েছেন। তারপর থেকে প্রচুর মানুষ ওই দাবিতে সায় দিতে শুরু করেছেন।