
অবাধে চলছে লুট - প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 August 2024 22:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর কার্যত হিংসার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। জায়গায় জায়গায় লুট, আগুন লাগিয়ে দেওয়া, খুন, সব কাণ্ডই ঘটেছে। অনেক জায়গায় আবার সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম সেই দাবিই করে। এমনই লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে যশোরেও। সেখানে রাত-রাত জেগে চলছে পাহারা দেওয়ার কাজ।
গত সোমবার দুপুরের পর থেকেই অবাধে লুটপাট শুরু হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। যশোরেরই এক হোটেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল যেখানে ২১ জনের মৃত্যু হয়। মূলত বেছে বেছে আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী, সমর্থকদের বাড়িতেই হামলা করা হয়েছে। পরিস্থিতির বর্ণনা করতে গিয়ে যশোরেরই এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, সেলাই মেশিন, গ্যাসের সিলিন্ডার, আলমারি থেকে টাকা-গয়না লুট করা হয়েছে। তার সঙ্গে জুটেছে মারধরও। বেশিরভাগ জায়গায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।
যশোরের একটি এলাকায় অন্তত ২০০ সংখ্যালঘু পরিবারের বাস। সেখানের বাসিন্দারাই আতঙ্কে আছেন এখন। রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তারা। কেউ বলছেন, রাত হলেই বাড়িতে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করছেন দুষ্কৃতীরা। কিছু লুট করতে না পারলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, রাতে অজানা লোকজন মোটরবাইক নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছে বলে আতঙ্ক কমছে না।
শুধু যে বাড়ি বাড়ি হামলা হচ্ছে এমনটা নয়। দোকানও লুট করা হচ্ছে বলে দাবি। একাধিক সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীদের দোকান ইতিমধ্যে ভাঙা হয়েছে। এছাড়া একাধিক কারখানা, গুদাম সবকিছুতে আক্রমণ চালানো হয়েছে। কম্পিউটার, ল্যাপটপ, এসি সহ আরও বহু জিনিস হয় ভেঙেছে দুষ্কৃতীরা, নয়তো লুট করে নিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে খালেদা জিয়া শান্তির বার্তা দিয়েছেন। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের যিনি প্রধান হবেন সেই মহম্মদ ইউনুসও বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন। তিনিও সকলকে শান্ত হতে বলেছেন। কিন্তু বিক্ষিপ্তভাবে যে অশান্তির খবর বাংলাদেশের নানা প্রান্ত থেকে আসছে তা মোটেই ভাল বার্তা দিচ্ছে না। হিংসা কবে থামবে তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।