
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 August 2024 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামি ছাত্রশিবির নিষিদ্ধের সরকারি আদেশ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে একথা জানান দলের আইনজীবী মহম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আজ, সোমবার (২৬ আগস্ট) যেহেতু সরকারি ছুটি, সেজন্য আগামিকাল, মঙ্গলবার এই নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহার হচ্ছে বলে আশা রাখছি।
শিশির মনির বলেন, কেন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হল সেটা আমরা জানি না। মনে করছি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ ফ্যাসিবাদী এই সরকারের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্র-জনতা আন্দোলন করেছে। জামায়াতে ইসলামিও সহযোগী শক্তি হিসাবে ভূমিকা রেখেছে। মুহাম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি (পূর্বনাম ছিল জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ) বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশে ইসলামি শরিয়ত আইন বাস্তবায়ন এই দলের উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই এদের মূল লক্ষ্য। এটি পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামির একটি শাখা এবং তা মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড-এর আদর্শ মেনে চলে। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এই সংগঠনকে অবৈধ এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করে।
সম্প্রতি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আওয়ামি লিগ সরকার এই দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। জামায়াতে ইসলামি ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবির (পূর্বের নাম ইসলামি ছাত্র সংঘ)-এর একটিকে বোঝাতে 'জামায়াত-শিবির' ব্যবহৃত হয়। জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার এবং পাকিস্তান ভাগের বিরোধিতা করেছিল। প্রায়শই জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার পিছনে ভারতীয় আধিপত্যের আশঙ্কা এবং ইসলামি আন্দোলনের স্বার্থকে সামনে আনে।
দলটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী, বুদ্ধিজীবী এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের হত্যায় সহযোগিতা করেছিল। দলটির অনেক নেতাকর্মী সেসময় গঠিত আধা-সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেছিল। যারা গণহত্যা, বিশেষ করে হিন্দুদের ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে স্থানান্তরের মত যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকার জামায়াতকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং দলের নেতারা পাকিস্তানে নির্বাসনে চলে যান। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর হত্যাকাণ্ডের পর এবং কয়েকটি সামরিক অভ্যুত্থানের পর ১৯৭৭ সালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে জামায়াতের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। দলটির নেতাকর্মীরা ফিরে আসার অনুমতি পান এবং ১৯৭৯ সালের মে মাসে তৎকালীন জামায়াতে ইসলামির অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা আব্বাস আলি খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি প্রতিষ্ঠিত হয়।