
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন
শেষ আপডেট: 3 March 2025 10:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের (Bangladesh) পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অমর্ত্য সেন (Amartya Sen) । সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ বলেছেন, আর পাঁচজন বাঙালির মতোই আমিই সে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে বিচলিত।
তাঁর ছেলেবেলার বেশ কয়েক বছর কেটেছে অধুনা বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ (Manikgange) এবং বিক্রমপুরে (Bikrampur)। সাক্ষাৎকারে সেই প্রসঙ্গে টেনে অমর্ত্য বলেছেন, আমি চিন্তিত তবে নিরাশ নই। আশাকরি সে দেশের মানুষ সব সামলে উঠবেন।
বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লিগকে (Awamy League) নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার (Interim Government headed Md Yunus) সেই সম্ভাবনা নাকচ করেনি। তারা রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রসঙ্গে সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনুসের প্রতি অমর্ত্য সেনের পরামর্শ সে পথে এগনো সঠিক হবে না। তাতে অতীতের শাসকদের ভুলের পুনরাবৃত্তির অভিযোগ পুনরায় উঠবে।
প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস সম্পর্কে তাঁর অভিমত জানিয়েছেন অমর্ত্য। বলেছেন, ‘ইউনূস আমার বহুদিনের বন্ধু। তিনি অত্যন্ত দক্ষ ও অসাধারণ মানুষ।’ অমর্ত্যের মতে, বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক পরিমণ্ডল রক্ষায় ইউনুস জোরালো বক্তব্য পেশ করেছেন। ইউনুসের প্রতি তাঁর আস্থা আছে, জানিয়েছেন অমর্ত্য।
আশ্চর্যের হল গণ অভ্যুত্থানের সাত মাস পর বাংলাদেশ নিয়ে প্রথম সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেও অমর্ত্যের বক্তব্যে শেখ হাসিনা (Sheikkh Hasina) এবং আওয়ামী লিগ সরকার সম্পর্কে কোনও কথা নেই। তবে বিগত জমানায় দেশটির অবাক করা উন্নতির প্রশংসা করেছেন ওই নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ। বলেছেন, মাথাপিছু আয়, গড় আয়ুতে ভারতকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদের মতে, ‘বাংলাদেশের উচিত একসঙ্গে কাজ করার ঐতিহ্য বজায় রাখা। কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। এই ব্যাপারে সকলের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করা প্রয়োজন। আশা করি, বাঙালির স্বাধীনতা ও বহুত্ববাদের প্রতিশ্রুতি অব্যাহত থাকবে এবং আগামীর নির্বাচনগুলো স্বচ্ছ হবে, যা অতীতে হয়নি বলে অনেকে মনে করেন।
চলতি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর (Bangladesh Army) ভূমিকার প্রশংসা করেছেন অমর্ত্য সেন। বলেছেন, সেনা বাহিনী ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেনি।
হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের (Bangladesh Minorities) উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের বিষয়ে নোবেল জয়ীর বক্তব্য, সরকার এবং সে দেশের জনগণকেই এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। তাঁর কথায়, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে সংখ্যালঘুদের প্রতি উদার। সে দেশে জামায়াত ইসলামি (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মতো সাম্প্রদায়িক শক্তি সেভাবে মাথা তুলতে পারেনি।
ভারতেও মসজিদ ভাঙার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে অমর্ত্য বলেছেন, বাংলাদেশ বা ভারত, যেখানেই হোক না কেন এ জাতীয় ঘটনা বন্ধ করতে হবে। তাঁর কথায়, সাম্প্রদায়িকতা দাঙ্গা উসকে দেওয়া সবচেয়ে সহজ। এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট ঘটনাকে বেছে বেছে মাত্রাতিরিক্ত প্রচার করা হয়। ১৯৪০-এর দশকের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা এভাবেই ছড়িয়ে পড়েছিল। আমাদের অবশ্যই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের বিষয়ে সচেতন হতে হবে।