
অনুষ্ঠানের ছবি
শেষ আপডেট: 11 October 2024 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর আগে ছিল হুমকি। ভয়ে তাই অনেক সর্বজনীয় পুজো কমিটি এবার দূর্গাপুজো বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশে। আর পুজো শুরু হতে নয়া কৌশল নিয়েছে সম্প্রীতি বিনষ্টকারীরা।
চট্টগ্রামের একটি প্রাচীন পুজো মণ্ডপে বুহস্পতিবার রাতে একদল তরুণ জোর করে সাংস্কৃতিক মঞ্চে উঠে ইসলামি সঙ্গীত পরিবেশন করে। অভিযোগ, আপত্তি করা হলেও মণ্ডপে প্রহরারত সেনা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ওই ঘটনায় শুক্রবার ভোরে পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।
পুজো কমিটির লোকজন সংঘাতে না গেলেও এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান। তাতে উত্তেজনা বাড়ে। রাতে চট্টগ্রামের জেলাশাসক ফরিদা খানম পুজো প্রাঙ্গনে গিয়ে আশ্বাস দেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে।
চট্টগ্রামের ওই ঘটনাটির পাশাপাশি বহু জায়গা থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে, এলাকার ইসলামপন্থীরা অনেকেই মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে দাঁড়িয়ে পড়ছে। কোনও কোনও জায়গায় নিরাপত্তার নামে সেনা-পুলিশ একেবারে ঠাকুর মঞ্চের সামনে লাইন করে দাঁড়িয়ে থাকছে। এতে পুজোর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে হিন্দুসমাজ রুষ্ট।
এবার জামাত ও বিএনপির নেতৃত্বে একাধিক জায়গায় ইসলামপন্ত্রীরা পুজো করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়। হুমকি উপেক্ষা করে অনেক জায়গায় পুজো হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, কোথাও জবরদস্তি, কোথাও সম্প্রীতি রক্ষার নামে ইসলামপন্থীরা তাদের অনুষ্ঠান করছে।
চট্টগ্রামের অভিযুক্ত তরুণেরা বাংলাদেশ জামায়াতি ইসলামির ছাত্র শাখা ছাত্র শিবিরের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। চট্টগ্রাম নগর দুর্গাপুজোর রহমতগঞ্জের জেএম সেন হলের পুজোয় সপ্তমীর রাতে গোলমাল হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেখামে চট্টগ্রামের মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম নগরের আমির শাহজাহান চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শিবিরের ছাত্ররা দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইসলাম বন্দনার গান শুরু করার ঠিক আগে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান। ঠিক ওই সময় তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়াটা কাকতালীয় নাকি পরিকল্পিত তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, প্রভাবশালী দুই নেতা আগে থেকেই জানতেন শিবিরের ছেলেরা কী করতে যাচ্ছে। তাঁরা তাদের বাধা না দিয়ে দু-কূল বাঁচাতে বিতর্কিত সময়ে যেখান থেকে চলে যান।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও-তে দেখা যায়, ছয় তরুণ মঞ্চে দাঁড়িয়ে গান গাইছে। তাঁদের দাবি, উদ্যোক্তাদের জানিয়েই তারা মঞ্চে ওঠেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর পুজো উদযাপন কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সুকান্ত মহাজন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল দত্ত বলেন, ওই তরুণেরা এসে বলেন, তাঁরা পুজো উপলক্ষে দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করতে চায়। তাদের সাদরে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু মঞ্চে উঠে তারা ইসলামি ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করে।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার ভিডিও-র নিচে বহু মানুষ মতামত দিয়েছেন। ধর্ম নির্বিশেষে বেশিরভাগেরাই ঘটনার নিন্দা করেছেন। পুজোর আগে ইসলামপন্থী একাধিক গোষ্ঠী দাবি করেছিল মসজিদের আজানের সময় যেন পুজোর বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। মাইক বাজানো যাবে না। করা যাবে না নাচ-গান। অথচ পুজোর মধ্যে হিন্দুদের উৎসব মঞ্চে উঠে ইসলামি সঙ্গীত পরিবেশন করা হচ্ছে। এটা এক ধরনের রক্তপাতহীন ধর্মীয় সন্ত্রাস।