
মহম্মদ ইউনুস ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন
শেষ আপডেট: 4 December 2024 10:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে ঠেকেছে। কূটনৈতিক বিবাদে জড়িয়ে পড়েছে দুই দেশের নাগরিকেরাও। সীমান্তে দু পারেই জাতীয় পতাকা পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তা বিপন্নতার অভিযোগ তুলে আগরতলায় তাদের সহকারী হাই কমিশনারের অফিস মঙ্গলবার থেকে বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আগের দিন ঢাকায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাজানো গল্প বলে উল্লেখ করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতেও ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রির ঢাকা সফর এখনও বাতিল করেনি নয়াদিল্লি। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টারা ছয় দিন পরের সম্ভাব্য সেই বৈঠকের আগে নতুন শর্ত আরোপ করতে শুরু করেছেন।
যেমন, শেখ হাসিনাকে উৎখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা মাহফুজ আলমের বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে সবচেয়ে আগে নয়াদিল্লিকে জুলাই-অগাস্ট বিপ্লবকে স্বীকৃতি দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, জুলাই-অগাস্ট মাসে গণ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে গদিচ্যুত করার পাশাপাশি নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। সেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে হলে সবচেয়ে আগে জুলাই-অগাস্ট বিপ্লবকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
মাহফুজ বর্তমানে বাংলাদেশের একজন উপদেষ্টা। তার হাতে কোনও মন্ত্রক নেই। তিনি প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের অন্যতম পরামর্শদাতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের খবর, নতুন এই পরামর্শদাতার মুখ দিয়ে ইউনুস তাঁর কথা বলান। অন্তর্বর্তী সরকারের চার মাসেই একাধিক ঘটনায় তা দেখা গিয়েছে। এমনকী গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সিদ্ধান্ত আগাম জানিয়েছেন মাহফুজ।
মঙ্গলবার আর এক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ভারতকে মনে রাখতে হবে, শেখ হাসিনা এখন আর বাংলাদেশের কেউ নন।
বুধবার মাহফুজ বলেছেন, ভারতকে ১৯৭৫ পূর্ববর্তী বাংলাদেশকে ভুলে যেতে হবে। প্রসঙ্গত, ওই বছর শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হয়েছিলেন। তাঁকেই এতকাল বাংলাদেশের স্থপতি বলা হত যা অন্তর্বর্তী সরকার মানে না।
উপদেষ্টাদের কথায় স্পষ্ট তারা ভারত-বাংলাদেশের বিগত ৫৪ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ক মানতে নারাজ। ইতিহাসের পাতা থেকে তা বাদ দিয়ে শর্তসাপেক্ষে নতুন সম্পর্ক গড়তে চাইছেন। যদিও ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা মঙ্গলবারও বলেছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একটা ধারাবাহিক ব্যবস্থা। একটি-দুটি ঘটনায় তা বিনষ্ট হয় না।
মাহফুজ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ইংরিজিতে লেখা পোস্টে বলেছেন, ‘জুলাই-অগাস্ট বিপ্লব ছিল নতুন প্রজন্মের একটি গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল লড়াই। এই সংগ্রাম দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। বাংলাদেশের মানুষ আর আগের মতো নেই। তারা ঐক্যবদ্ধ ও মর্যাদা সচেতন। তারা মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মর্যাদার লড়াই চালিয়ে যাবেন।
তাঁর কথায়, 'ভারতের বন্ধুরা ভাবছে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যাবে এবং জুলাই-অগাস্ট বিপ্লব এবং ফ্যাসিবাদীদের আগ্রাসনের কাহিনি মামুষ ভুলে যাবেন। কিন্তু এটা একটা ভুল ধারণা। মানুষ সব দেখছে।'
তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় সংস্থা জুলাই-অগাস্ট বিপ্লবকে জঙ্গিপনা এবং হিন্দু-বিরোধী জাগরণ ও ইসলামপন্থীদের ক্ষমতা দখল হিসাবে দেখাচ্ছে। তাদের অপপ্রচার ও উসকানি সফল হবে না।