শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে অসংখ্য ভুয়া মামলা দায়ের হয়েছে। এইসব মামলা ঝাড়াই-বাছাই করে চিহ্নিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

শেষ আপডেট: 23 February 2026 19:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে অসংখ্য ভুয়া মামলা দায়ের হয়েছে। এইসব মামলা ঝাড়াই-বাছাই করে চিহ্নিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
রবিবার ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসারদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান গণঅভ্যুত্থানের পর লাগামহীন ভাবে ভিত্তিহীন মামলা হয়েছে। সাংবাদিক, বিশিষ্টদের গ্রেফতার করে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। পুলিশকে বলা হয়েছে মামলা ঝাড়াই বাছাই করে অবাঞ্ছিত মামলা থেকে সংশ্লিষ্টদের নিষ্কৃতি দিতে।
এদিকে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের বাইরে জেলবন্দি বেশ কয়েকজনের মুক্তির দাবি উঠেছে। তাদের অন্যতম হল কবি, নিবন্ধকার এবং মানবাধিকার আন্দোলনের সংগঠক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা শাহরিয়ার কবির। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এই প্রধান সংগঠক ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। তাঁকে খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।
প্রায় দেড় বছর জেলে বন্দি বাংলাদেশের জনপ্রিয় আসাদুজ্জামান নূর। তাঁর বিরুদ্ধে জোড়া খুনের মামলা দেওয়া হয়েছে। প্রবীন এই অভিনেতাও গুরুতর অসুস্থ।
জেলবন্দি বাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, এডিটর্স ডিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু, জনপ্রিয় টিভি সাংবাদিক ফারজানা রুপা প্রমুখ।
সোমবার বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানতে চান ভিত্তিহীন মামলার সংখ্যা কত। পুলিশ প্রশাসনের তরফে বৈঠকে স্পষ্ট জবাব দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আভাস দেওয়া হয়েছে এমন মামলার সংখ্যা কয়েক হাজার।
ওয়াকিবহাল মহলের খবর, মিথ্যা মামলার আসামিরা অধিকাংশই আওয়ামী লিগ অথবা তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ওই দলের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যক্তিরা। অনেক ব্যবসায়ীও মিথ্যা মামলায় জেল খাটছেন।
এছাড়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অধিকাংশ মামলায় করেছে বর্তমান শাসক দল-বিএনপি। মন্ত্রীর নিজের দলের নেতাদের করা মামলাগুলি প্রত্যাহার করা হবে কিনা তা নিয়ে এখন কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশে সংগঠিত বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে বর্তমান সরকার নতুন করে কমিশন গঠন করে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাস চারেক আগে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত কমিশন বিডিআর হত্যাকান্ড নিয়ে তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিএনপি'র ইস্তাহারে বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্তের কথা বলা আছে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে তারা নিজেরাই আরো একটি কমিশন গঠন করতে চান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন আরও জানিয়েছেন, সরকার বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে। এছাড়া লাইসেন্স আছে এমন অস্ত্রের বিষয়ও পুনর্বিবেচনা করা হবে। খতিয়ে দেখা হবে ব্যক্তিগত অস্ত্র রাখার প্রয়োজন আছে কিনা।