
শেষ আপডেট: 27 February 2025 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের (Bangladesh) সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় (Dhaka) বিএনপি-র (BNP) বর্ধিত সভায় যোগ দেবেন। তিনিই সভার প্রধান অতিথি।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতির (corruption) মামলায় জেল হয় এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর। তারপর সাত বছর তিনি দলের সভায় যোগ দেননি। সাজা মকুবের পর গত বছর নভেম্বরে সেনা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে প্রথম জনসমক্ষে এসেছিলেন।
প্রথমে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকলেও পরে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ৭৯ বছর বয়সি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মানবিক কারণে বিশেষ প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে বাড়িতে থাকার অনুমতি দেন।
তবে গৃহবন্দি খালেদার বহু সময় কাটে হাসপাতালে। জটিল অসুখের কারণে গত বছর ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতি ((President of Bangladesh) মহম্মদ সাহাবুদ্দিন (Md Sahabuddin) মুক্তি দেন খালেদা জিয়াকে। চিকিৎসার জন্য তিনি বর্তমানে লন্ডনে।
লন্ডন ক্লিনিকে চিকিৎসার পর বর্তমানে ছেলে তারেক রহমানের (Tarek Rahaman) বাড়িতে আছেন তিনি। বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে তাঁর। আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ। সেখান থেকেই খালেদা ও তারেক ভার্চুয়াল সভায় যোগ দেবেন।
ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবন লাগোয়া মাঠে শুরু হয়েছে বিএনপির বর্ধিত কমিটির সভা। থানা পর্যায় পর্যন্ত নেতারা সভায় যোগ দিয়েছেন। খালেদার যোগদানের কথা আগাম জানানো হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে নেত্রীর উপস্থিতির কথা জানার পর নেতা-কর্মীরা উল্লসিত। বহুদিন পর বর্ধিত কমিটির সভা হওয়ায় বিএনপি-র নেতা-কর্মীদের মধ্যে তুমুল উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল মনে করছে খালেদার সুস্থ হয়ে ওঠা বিএনপির জন্য খুবই ইতিবাচক হতে পারে। দলে যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচা়ডা দিয়েছে খালেদা বার্তা দেওয়ার পর তাতে লাগাম পড়তে পারে। আসলে বাংলাদেশে আওয়ামী লিগ (Awami League) এবং বিএনপি-র শত বিরোধের মধ্যে মিল হল দুই দলই দুই নেত্রীকে দেখে ঐক্যবন্ধ। দুই দলের দীর্ঘদিন দেশ শাসন করার পিছনে দুই মহিলার নেতৃত্বই প্রধান চালিকা শক্তি ছিলেন। হাসিনা পারিবারিক সুত্রে স্কুল জীবন থেকে রাজনীতিতে যুক্ত হলেও খালেদা দলের হাল ধরেছেন তাঁর স্বামী রাষ্ট্রপতি তথা সেনাকর্তা জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahaman) বিক্ষুব্ধ সেনার হাতে নিহত হওয়ার পর।