
চঞ্চল চৌধুরী।
শেষ আপডেট: 13 December 2024 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীকে (Chanchal Chowdhury) নিয়ে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ওপার বাংলার সংবাদমাধ্যম 'দৈনিক ইত্তেফাক'-এর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমে প্রথম লেখা হয়, নিউইয়র্কে যাওয়ার সময় বিমানবন্দর থেকে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে চঞ্চল চৌধুরীকে এবং বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এই তথ্য একেবারেই সত্য নয় বলে জানিয়েছেন অভিনেতা।
এপার বাংলার একাধিক শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেই এই 'ফেক নিউজ' প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে চঞ্চল চৌধুরী নিজে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এসব খবর পুরোপুরি মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।
জানা গেছে, কয়েক দিন আগে ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার জন্য একটি ফ্লাইটে উঠেছিলেন চঞ্চল চৌধুরী। ফ্লাইটটি দুবাই হয়ে নিউইয়র্ক যাওয়ার কথা ছিল। এই বিমানযাত্রাকে কেন্দ্র করেই ভুল তথ্য পরিবেশনের ধুম পড়ে যায় বলে অভিযোগ।
এপার বাংলার সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়, ফ্লাইট ছাড়ার ঠিক আগে কিছু বিএনপি নেতা এবং সেনাবাহিনীর সদস্য বিমানটিতে উঠে চঞ্চলের কাছে যান এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, 'আপনিও কি হাসিনার মতো দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন?' চঞ্চল নাকি তাঁদের উত্তর দেন যে তিনি কাজের জন্য নিউইয়র্কে যাচ্ছেন। এরপর তাঁকে বিমান থেকে নামিয়ে নেওয়া হয় এবং গৃহবন্দি করে রাখা হয় বলে প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়।
শুধু তাই নয়। অভিযোগ, ভুয়ো খবরগুলিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই চঞ্চল চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে বলে সেই সব সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল।
আজ, শুক্রবার ইত্তেফাকে প্রকাশিত খবরে লেখা হয়েছে, চঞ্চল চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানান, এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, এই খবরের কোনও ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কোনও সাংবাদিকের সঙ্গেও গত কয়েক মাস ধরে কথা বলিনি। কীভাবে এ ধরনের ভুল তথ্য ছড়ানো হলো, তা আমি জানি না।'
শুধু চঞ্চল চৌধুরীর এই খবর নয়, গত কয়েক দিন ধরেই বাংলাদেশ অভিযোগ করছে, সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের ঘটনা বাড়ছে। চঞ্চল চৌধুরীকে নিয়ে এমন গুজব ছড়ানোও এর একটি উদাহরণ বলেই দাবি করছে তারা।
অভিযোগ, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে দু'দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই ধরনের ভুল খবর ছড়াচ্ছে, যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।