সাভারের স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহিদদের সম্মানে তৈরি করা হলেও সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কমবেশি সকলেই ভিজিটার বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমানের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু তারেক রহমান জাতির এই দুই মহান নেতার কথা তার প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেননি।

তারেক রহমান
শেষ আপডেট: 18 February 2026 17:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। 
বুধবার সকালে সেখানে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এরপর তারেক রহমান স্মৃতিসৌধের ডিজিটাল বইয়ে তাঁর অনুভূতির কথা লেখেন। অতীতে রাষ্ট্রপ্রধানেরা স্মৃতিসৌধের ভিজিটের বইয়ে তাদের প্রতিক্রিয়ার কথা লিখতে গিয়ে কেউ কখনও জাতির পিতা তথা তথা বাংলাদেশের স্থপতি বলে খ্যাত বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান তো কেউ বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি তথা স্বাধীনতা যুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রয়াত জিয়াউর রহমান হলেন তারেক জিয়ার পিতা।
সাভারের স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহিদদের সম্মানে তৈরি করা হলেও সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কমবেশি সকলেই ভিজিটার বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমানের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু তারেক রহমান জাতির এই দুই মহান নেতার কথা তার প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেননি।
মনে করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক এড়াতেই নতুন প্রধানমন্ত্রী সচেতনভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ আওয়ামী লীগ দাবি করে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অন্যদিকে বিএনপি'র বক্তব্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দেশকে স্বাধীন করার ডাক দিয়েছিলেন প্রথম তৎকালীন সেনা অফিসার জিয়াউর রহমান। জিটু একটি মত হল জিয়াউর রহমান আসলে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক সংক্রান্ত বার্তাটি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে গিয়ে পাঠ করেছিলেন। দিনে দুধ অফ পায় সেই ঘোষণা পত্র পাঠ করেন। দ্বিতীয়বার তিনি উল্লেখ করেন যে জাতীয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তরফে তিনি স্বাধীনতার ডাক দিচ্ছেন। নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর মুখে তারেক সম্ভবত এই ধরনের বিতর্ক আবার শুরু হোক তা চাননি।
ডিজিটর বইয়ে তারেক রহমান লিখেছেন, 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই।
তিনি আরও লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নবগঠিত মন্ত্রিসভাসহ আমি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। যাঁদের আত্মত্যাগে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ দেশের ইতিহাসে এযাবৎকালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সকল শহীদদের প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।'
তাঁর বক্তব্য, আমি এবং আমরা বিশ্বাস করি, শহিদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। শহিদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা কাজ শুরু করেছি। আল্লাহ যেন আমাদেরকে জনগণের সামনে ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের তৌফিক দান করেন। আমি আবারও আল্লাহর দরবারে সকল শহিদের মাগফিরাত কামনা করছি।'