বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, ভোটের দিন বুথ পাহারায় তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ভোট কেন্দ্রগুলির বাইরে থাকবে সেনা বাহিনী (Bangladesh army will guard the booths) । বুথের মুখে থাকবে পুলিশ। এছাড়া বুথের ভিতরে ভোট বাক্স পাহারার দায়িত্বে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষীরা।

শেষ আপডেট: 26 August 2025 19:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঢাকা ইউনির্ভাসিটি সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (Dhaka University Central Student’s Union) বা ডাকসু’র নির্বাচন ঘিরে সরগরম বাংলাদেশের রাজধানী। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। ২৮টি পদে মোট ৪৯১জন প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। ভোট নেওয়া হবে ৯ সেপ্টেম্বর।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, ভোটের দিন বুথ পাহারায় তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ভোট কেন্দ্রগুলির বাইরে থাকবে সেনা বাহিনী (Bangladesh army will guard the booths) । বুথের মুখে থাকবে পুলিশ। এছাড়া বুথের ভিতরে ভোট বাক্স পাহারার দায়িত্বে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষীরা।
ছাত্র ভোটের বুথ পাহারায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, তাহলে গণতন্ত্র ফিরল কই, যদি ছাত্রদের ভোটেও মারামারি কাটাকাটি, ভোট লুট, রিগিং-সন্ত্রাসের আশঙ্কা থাকে। অতীতে ভোট ঘিরে অশাম্তি, অনিয়মের ঘটনায় আওয়ামী লিগের দিতে আঙুল তোলা হয়েছে। সেই সাবেক শাসক দল এখন রাজনীতির ময়দানে প্রকাশ্যে সক্রিয় নয়। তাদের রাজনৈতিক কার্যকলাম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও কেন অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেনা নামাতে হচ্ছে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আলোচনায় আসছে গত বছর গণঅভ্যুত্থানের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ-সেনা-সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনা। প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন তাহলে কীভাবে সেনা-পুলিশকে তলব করছে?
ডাকসু’র এই ভোট হতে চলেছে ছয় বছর পর। শেষবার নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯-এ। তার আগে তিন দশক নির্বাচন বন্ধ ছিল। আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচন সব দলের কাছেই লিটমাস টেস্ট বলা চলে। বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজের সঙ্গে ওতপ্রতভাবে জড়িয়ে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডাকসু।
ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম থেকে পাকিস্তানের দাবি, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন, স্বশাসনের লড়াই থেকে মুক্তিযুদ্ধ—সব পর্বেই শতাব্দী প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র সংসদটির ভূমিকা আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে আছে। যে কারণে ডাকসু’কে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদ বলা হয়ে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পদাধিকার বলে ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট হন উপাচার্য। ভাইস প্রেসিডেন্ট বা ভিপি পদ নিয়েই হয় যত লড়াই। ডাকসু’র ভিপি হওয়াকে রাজনীতির পথে অগ্রসর এবং সাফল্যের সঙ্গে প্রথম ধাপ উত্তরণ ধরা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রথমসারির রাজনীতিকদের অনেকেরই রাজনীতিতে হাতেখড়ি ডাকুসর ভিপি পদ দিয়ে।
সেই ডাকসু’র নির্বাচনে এবারই প্রথম সরকারিভাবে লড়াইয়ে নেই আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লিগ। শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত দেশের সবচেয়ে পুরনো এবং বৃহত্তম এই ছাত্র সংগঠনের ঝুলিতে ১৯৭১-এ স্বাধীনতার আন্দোলনের নেতৃত্বদানের কৃতিত্ব রয়েছে। তার আগে স্বাধিকারের লড়াই এবং ভাষা আন্দোলনেও প্রথমসারিতে ছিল ওই সংগঠন।
সেই সংগঠনকে গত বছর অগস্টে পালা বদলের পর সন্ত্রাস দমন আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মহম্মদ ইউনুসের সরকার। ফলে ছাত্র লিগের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নেই। সংগঠনের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের কথায়, ‘ছাত্র লিগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কোনও ছাত্র সংসদ নির্বাচন কখনও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে না। তা সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হোক কিংবা রাজশাহী, খুলনা, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই বলা হোক না কেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শুধু অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না তাই-ই নয়, ছাত্র লিগের সমর্থক হাজার ছেলেমেয়ের শিক্ষা জীবনে ইতি টেনে দেওয়া হয়েছে। তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি নেই। ক্লাস করতে পারছে না। পরীক্ষা দিতে দেওয়া হচ্ছে না।’
সূত্রের খবর, ছাত্র লিগ ময়দানে না থাকায় মূল লড়াই হবে বিএনপি’র ছাত্র দল এবং জামাত-ই-ইসলামির ছাত্র শিবিরের মধ্যে। এছাড়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রার্থীরা আছেন। ওই ছাত্র সংগঠনের প্রথমসারির নেত্রী উমামা ফাতামার স্বতন্ত্র বা নির্দল প্রার্থী হিসাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত ডাকসু’র নির্বাচনকে নয়া মাত্রা দিয়েছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে এই নেত্রী হাসিনা সরকারকে উৎখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া ওই সংগঠনকে টাকা কামানোর মেশিন বলে মন্তব্য করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন।