আসলে বহু বছর এই বাড়িটিই বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাদেমির ময়মনসিংহ জেলার অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হত। জানা যাচ্ছে, শিশু অ্যাকাদেমিই বাড়িটি ভেঙে বহুতল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 July 2025 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই ময়মনসিংহে ভেঙে ফেলা বাড়িটির (Satyajit Ray's Ancestral House)। এত দিন ধরে যে খবর ঘুরছিল দুই বাংলায়, সেই বিতর্কে এবার এই কথা জানাল বাংলাদেশ প্রশাসন (Bangladesh)। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই দাবি নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ, সম্প্রতি জানান হয়েছিল যে, বাড়িটি ভাঙার কাজ স্থগিত করা হয়েছে এবং বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের জেলা শাসক (ডেপুটি কমিশনার) মোফিদুল আলম বুধবার এক সংবাদমাধ্যমকে জানান, “সরকারি নথি খতিয়ে দেখে জানা গেছে, ওই বাড়িটি শিশুকল্যাণ সংস্থার পুরনো অফিস, সত্যজিৎ রায়ের পরিবারের কোনও সম্পত্তি নয়। এই ব্যাপারে স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গেও কথা বলা হয়।” তিনি দাবি করেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখেই ভাঙার কাজ হচ্ছিল।
জেলা প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষদের বাড়ি ‘দুর্লভ হাউস’ এখনও অক্ষত রয়েছে। মোফিদুল আলম বলেন, “আমরা দুর্লভ হাউসের বর্তমান মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, রায় পরিবারের কাছ থেকেই বাড়িটি কিনেছেন এবং তার বৈধ নথি রয়েছে। যে বাড়িটি ভাঙা হচ্ছে সেটি পাশের একটি আলাদা ভবন। ভুল করে সেটিকেই রায় পরিবারের ভিটে বাড়ি বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।”
এখানেও একটি বিষয় রয়েছে। আসলে বহু বছর এই বাড়িটিই বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাদেমির ময়মনসিংহ জেলার অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হত। জানা যাচ্ছে, শিশু অ্যাকাদেমিই বাড়িটি ভেঙে বহুতল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে বাড়িটির সামনের অংশের প্রায় পুরোটাই ভাঙা হয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ হস্তক্ষেপ করায় ভাঙার কাজ আপাতত বন্ধ আছে।
ময়মনসিংহ শিশু অ্যাকাদেমির জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা মহম্মদ মেহেদী জামানের বক্তব্য, প্রাচীন বাড়িটি এমনীতেই ভেঙে পড়ছিল। সেই কারণে ২০০৭ থেকে শিশু অ্যাকাদেমি আর বাড়িটি ব্যবহার করত না। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সেখানে বহুতল তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাড়িটি ভাঙার খবর পেয়ে সেটি পরিদর্শনে যান ময়মনসিংহের বাসিন্দা গবেষক ও লেখক স্বপন ধর। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজা শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী সমমনা হিতাকাঙ্ক্ষীদের নিজের কাছাকাছি নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে ছিল হরিকিশোরদের পরিবারও। যে বাড়িটি ভাঙা হচ্ছে সেটির পাশেই রয়েছে হরিকিশোর ভবন নামে আর একটি বাড়ি।
সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি ভাঙা হচ্ছে এই খবর পাওয়া মাত্রই উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরাসরি এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন। তারপরই বাংলাদের জানিয়েছিল, সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটে ভাঙার ঘটনা নিয়ে দুই বাংলায় যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা ‘ভুল বোঝাবুঝি’। দাবি, বাড়িটি ভগ্নদশায় থাকায় সুরক্ষার কথা ভেবেই ভাঙা শুরু হয়েছিল। তবে নতুন করে সেখানে একটি আধুনিক কংক্রিটের ভবন নির্মাণ করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল প্রশাসনের।
এখন বলা হচ্ছে, ওই বাড়িটি সত্যজিৎ রায়েরই নয়!