
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 December 2024 20:08
গণ অভুত্থানের ঘোষণাপত্র আগামী ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশ করবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব। রবিবার ঢাকায় ছাত্র নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে।
ওই ঘোষণার খসড়া কপি 'দ্য ওয়াল' সংগ্রহ করেছে। তাতে বাংলাদেশের চলতি সংবিধান বাতিল এবং শেখ হাসিনার জমানায় নির্বাচিত অথবা মনোনীত সব পদাধিকারীদের নিয়োগ বাতিল করতে হবে। চলতি সংবিধান চালু হয় ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে। আগের বছর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পর সেটাই ছিল প্রথম সংবিধান।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জানিয়েছে জুলাই-অগাস্ট বিপ্লবের এই ঘোষণাপত্র ৫ অগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে ধরা হবে। স্বভাবতই ওই ঘোষণাপত্র অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনকে বিদায় নিতে হবে। গত বছর শেখ হাসিনার জমানায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতি হন সাহাবুদ্দিন।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতৃত্বের ঘোষণাপত্র সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানার পর বিতর্ক এড়াতে তড়িঘড়ি প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। ঢাকায় তিনি বলেন, এটা একটা প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভ। এটির সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নেই। যারা ছাত্রদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন তারা একটি প্রাইভের ইনিশিয়েটিভকে সমর্থন করছেন।
ছাত্রদের জুলাই-অগাস্ট বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশের চলতি সংবিধান আমূল বদলের দাবি নিয়ে গণ অভ্যুত্থানের পর থেকেই বিতর্ক চলছে। ছাত্রদের দাবি, ওই সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করা হয়েছে। মুজিববাদী ওই সংবিধান ন্যায়ের পরিপন্থী। বৈষম্যের অবসানে নতুন সংবিধান চাই।
খসড়া ঘোষণাপত্রে হাসিনার সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের অপসারণের দাবি নিয়েও বিতর্ক এবং সরকারের অস্বস্তি আছে। ছাত্ররা এর আগে বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অপসারণ দাবি করেছিল। তাতে প্রচ্ছদ সায় ছিল ইউনুস সরকারেরও। বিতর্ক ও চাপের মুখে সরকার ও ছাত্ররা তখন পিছিয়ে যায়। ছাত্ররা খসড়া ঘোষণাপত্রে নাম না করে ফের রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি করেছে। বিপ্লবেরপত্র ৫ অগাস্ট থেকে কার্যকর হবে জানিয়েছে তারা। স্বভাবতই এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে সাহাবুদ্দিনের অপসারণ।