
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু, গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 26 November 2024 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় ৮ দফা দাবি তুলেছে সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোট। এই দাবিগুলি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে তুলে ধরার পরেও জোটের মুখপাত্র এবং ইস্কনের প্রভাবশালী নেতা শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুকে গ্রেফতার (Chinmoy Krishna Das Arrest) করা হয়েছে।
নয়াদিল্লি তথা ভারত সরকার এই ঘটনায় "গভীর উদ্বেগ" প্রকাশ করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "বহুবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ, একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ন্যায্য দাবি তোলায় ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।"
গ্রেফতারের পটভূমি:
বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষ্ণ দাস প্রভুকে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে ঢাকার প্রধান বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। জাগরণ জোট তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে তাদের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে মহম্মদ ইউনুস প্রশাসনকে।
আট দফা দাবি: (8 Point demand raised by Bangladeshi Hindu Organisation)
১. সংখ্যালঘু নিপীড়নের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন: দ্রুত বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।
২. সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত করা।
৩. সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক গঠন: সংখ্যালঘুদের বিশেষ চাহিদা এবং সমস্যা সমাধানে কাজ করা।
৪. হিন্দু ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তর করতে হবে: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকতে হবে।
৫. দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ ও আইন প্রণয়ন: মন্দির এবং সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থান সুরক্ষিত করা এবং ‘ভেস্টেড প্রোপার্টি অ্যাক্ট’-এর অপব্যবহার বন্ধ করা।
৬. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘু প্রার্থনার স্থান: সকল ছাত্রদের ধর্মীয় অনুশীলনের সুযোগ নিশ্চিত করা।
৭. সংস্কৃত ও পালি শিক্ষার আধুনিকীকরণ: সংখ্যালঘু শিক্ষার মানোন্নয়ন।
৮. দুর্গাপূজা উৎসবে বিশেষ ছুটি বৃদ্ধি: সংখ্যালঘু উৎসবের সময় সরকারি ছুটি বৃদ্ধির দাবি।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা:
বাংলাদেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা ৯১% এবং হিন্দুদের সংখ্যা ৮.৯৫%। অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যেমন বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, এবং আদিবাসীরা নিয়মিতভাবে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার বলে অভিযোগ। বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আইনের শাসনের অবনতি যে ঘটেছে তা অরাজকতার ছবিতেই পরিষ্কার।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
জাগরণ জোট জানিয়েছে, দাবিগুলি বাস্তবায়নে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলিও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।