.jpeg)
চিন্ময়কৃষ্ণ দাস
শেষ আপডেট: 11 December 2024 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চট্টগ্রাম জেলে বন্দি হিন্দু সাধু চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিনের শুনানি এগিয়ে আনতে চেয়ে বুধবার জেলা আদালতে সওয়ালই করতে পারলেন না তাঁর আইনজীবী। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নামজাদা আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ বুধবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির হয়ে চিন্ময়কৃষ্ণের জামিনের আবেদন ২ জানুয়ারির পরিবর্তে এদিন শোনার জন্য বিচারকের কাছে আর্জি জানান। বিচারক সাইফুল ইসলাম আর্জি খারিজ করে দেন।
অবশ্য তার আগে প্রায় শ-দুয়েক আইনজীবী এজলাসে হাজির হয়ে রবীন্দ্র ঘোষের আর্জির বিরোধিতা করেন। তাঁরা দাবি করেন, নির্ধারিত দিন অর্থাৎ ২ জানুয়ারিই চিন্ময়ের জামিনের আবেদন নিয়ে ফের শুনানি করা যেতে পারে। তার আগে নয়।
জানা গিয়েছে চট্টগ্রাম আদালতের বিএনপি ও জামাতপন্থী আইনজীবীরা এজলাসে ঢুকে তুমুল আপত্তি তোলেন। চিন্ময়ের জামিনের আর্জির বিরোধিতা করে স্লোগান দেন। হট্টমেলার মধ্যে আদালতের কাজ পণ্ড হয়ে যায়। বিরক্ত বিচারক এজলাস ছেড়ে নিজের চেম্বারে চলে যান। দুপুরে এজলাসে ফিরে বলেন, জামিনের আর্জি তিনি শুনবেন না।
বিচারক যুক্তি দেন জেলবন্দি চিন্ময়কৃষ্ণের ওকালতনামায় আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষের নাম নেই। আদালত রবীন্দ্র ঘোষকে চিন্ময়কৃষ্ণের আইনজীবী হিসাবে মেনে নিচ্ছে না। রবীন্দ্র ঘোষ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর জন্য ওকালতনামার প্রয়োজন হয় না। বুধবারই ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে পৌঁছে সরাসরি আদালতে এসেছেন। কিন্তু বিচারক তাঁর কথা মানতে চাননি। এরই মধ্যে বিএনপি এবং জামাতপন্থী আইনজীবীরাও গলা ছেড়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। তাদের হট্টগোলে আদালতের কাজ বিঘ্নিত হয়।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি হত সপ্তাহে সিদ্ধান্ত করে কোনও আইনজীবী চিন্ময়কৃষ্ণের হয়ে মামলা লড়লে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে। ফলে চট্টগ্রামের আইনজীবীরা কেউ আদালতে ছিলেন না। তাছাড়া গত ২৬ নভেম্বর চিন্ময়কৃষ্ণের হয়ে আদালতে যে ৭০জন আইনজীবী জামিনের আবেদন নিয়ে লড়াই করেছিলেন তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারি এড়াতে তাঁরা আদালতে আসছেন না।