
শেখ মুজিব ও জিয়াউর রহমান
শেষ আপডেট: 31 December 2024 14:19
বাংলাদেশে স্কুলের পাঠ্য বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বড় ধরনের পরিবর্তন করা হল। পঞ্চম শ্রেণির জন্য তৈরি নতুন পাঠ্য বইয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলে লেখা হয়েছে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম। স্বাধীনতার পর বিগত ৫৪ বছর সরকারিভাবে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম লেখা হয়েছে। সেই কারণে তাঁকে জাতির পিতা বলে সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়। নতুন বছরে পঞ্চম শ্রেণি থেকে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস পড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পঞ্চম শ্রেণির বইয়ে বলা হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ গভীর রাতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কমান্ডার জেনারেল জিয়াউর রহমান। পাঠ্য বইতে আরো বলা হয়েছে স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বার্তাও জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন।
এতদিন যে ইতিহাস দেশবাসী জানত তা হল, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকায় গণহত্যা শুরু করে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান গণহত্যার প্রতিবাদে স্বাধীনতার ডাক দেন। তাঁর এই সংক্রান্ত বারবার তা ঢাকার পুলিশ সদর থেকে প্রচার করা হয়। ওই ঘোষণার পর পাকিস্তানি সেনা শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমণ্ডির বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে করাচিতে নিয়ে গিয়েছিল।
তবে বিএনপি দাবি করে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। নতুন সরকারি পাঠ্যপুস্তকে বিএনপি'র দীর্ঘদিনের দাবি স্বীকৃতি পেল বলা চলে।
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় নামে বইয়ের একটি অধ্যায়ে, 'পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা’ শীর্ষক লেখায় বলা হয়েছে, ‘...পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই আক্রমণের নাম দিয়েছিল “অপারেশন সার্চলাইট”। সেই রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৬ মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭ মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।’
নতুন বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতা মাওলানা ভাসানীর ছবি ও জীবনী। তাতে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও অবদানের উল্লেখ আছে।
তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে দিয়ে সেই কৃতিত্ব জিয়াউর রহমানকে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটা দীর্ঘ বিতর্ক আওয়ামী লীগ এবং একাধিক দল স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বঙ্গবন্ধুকেই মেনে নিয়েছে। কিন্তু বিএনপি বারে বারেই দাবি করেছে এটা ইতিহাসের মিথ্যাচার। বিএনপি আরো বলে থাকে গ্রেপ্তার হয়ে পাকিস্তানের জেলে নিশ্চিন্ত জীবন কাটিয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান অন্যদিকে জিয়াউর রহমান ছিলেন রণাঙ্গনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি তার সেনাবাহিনীকে সামনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন