
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ছবি
শেষ আপডেট: 30 November 2024 22:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর জেরে আরও ১১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭০ জন আইনজীবী এবং দুজন সাংবাদিক। তাঁরা সকলেই হিন্দু। অভিযুক্তদের বেশ কয়েকজন হিন্দু জাগরণ ঐক্য মঞ্চের আহ্বায়ক চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী। গত ২৫ নভেম্বর তাঁকে দেশদ্রোহিতার মামলায় গ্রেফতার করা হয়।
পরদিন তাঁকে চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিন মঞ্জুর না করায় চিন্ময় কৃষ্ণের অনুগামীরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা আদালত চত্বরে আটকে ছিল প্রিজন ভ্যান। পরে পুলিশ ও সেনা বাহিনী লাঠিচার্জ করে, কাঁদানে গ্যাসের সেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড চার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। ওই সময় জটলার মধ্যে পড়ে যান আইনজীবী সাইফুল। তাঁর মৃত্যু হত্যা নাকি দুর্ঘটনা তা নিয়ে সংশয় আছে। যদিও খুনের ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেছেন নিহত আইনজীবীর ভাই খানে আলম। এ নিয়ে হত্যাসহ পাঁচটি মামলা হল। আইনজীবীদের একাংশের অভিযোগ নিহত আইনজীবীর বাবাকে দিয়ে খুনের মামলাতেই হিন্দু আইনজীবীদের নাম যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু পর পর দু'জন বিচারক আদালত চত্বরের বাইরে হওয়া খুনের ঘটনা নিয়ে বিচার ভবনে থাকা আইনজীবীদের নাম জড়িয়ে মামলা নিতে চাননি। তাই আইনজীবী হত্যার পাঁচদিনের মাথায় নিহতের ভাইকে দিয়ে বিস্ফোরক আইনে শনিবার মামলা দায়ের করানো হয়েছে বলে সংখ্যালঘুদের সংগঠনগুলির অভিযোগ।
শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন খানে আলম। সেদিনই নিহত আইনজীবী সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। তাতে আওয়ামী লিগ, যুবলিগ, ছাত্রলিগের ইন্ধনে সাইফুলকে খুন করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুল করিম সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, নিহত সাইফুলের ভাই বাদী হয়ে ১১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচিতি আরও ৫০০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেছেন।
মামলার আসামিদের অন্যতম চট্টগ্রাম আদালতের প্রবীন আইনজীবী ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক পরিষদের চট্টগ্রাম ডিভিশনের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী নিতাই প্রসাদ ঘোষ, মহানগর পূজা পরিষদের সাবেক সভাপতি চন্দন কুমার তালুকদার, মহানগর পূজা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী নিখিল কুমার নাথ, আইনজীবী চন্দন দাস, রুবেল পাল, সুমন আচার্য্য, আশীর্বাদ কুমার বিশ্বাস প্রমুখ।
সাংবাদিকের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাস ও দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিন–এর উপদেষ্টা সম্পাদক আয়ান শর্মা।
যোগাযোগ করা হলে আইনজীবী নিতাই প্রসাদ ঘোষ দ্য ওয়াল-কে টেলিফোনে বলেন, মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে আইনজীবীদের। আদালত চত্বরে কোনও বিস্ফোরণ হয়নি। সেখানে বিস্ফোরক রাখার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর আরও অভিযোগ, চট্টগ্রাম আদালতের নয় হাজার আইনজীবীর মধ্যে নয়শো জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তাঁদের মধ্যে যাঁরা সংখ্যালঘুদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করেন বেছে বেছে তাঁদেরকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
ওই মামলার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিমুদ্দিন চৌধুরী দ্য ওয়াল-কে বলেন, আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কেন মামলা দায়ের করা হল তা বোঝা যাচ্ছে না। বিএনপি ঘনিষ্ঠ এই আইনজীবীর বক্তব্য, নিহত আইনজীবীর পরিবারকে সমিতির তরফে আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা নিজেরা আইনজীবী নিয়োগ করেছেন। আমরা কারও মামলা করার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারি না। তবে, আইনজীবীদের কেন মামলায় জড়ানো হল সে বিষয়ে রবিবার সমিতির বৈঠকে আলোচনা করা হবে।