
ঢাকায় বাংলাদেশে টেলিভিশন ভবনে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। ফলে সরকারি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ।
শেষ আপডেট: 19 July 2024 00:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোটা বিরোধী আন্দোলনে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে আরও ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার মারা যান ছয় জন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক সংঘর্ষে মৃতদের মধ্যে একজন সাংবাদিক, একজন রিকশ চালক ও একজন পথচারীও আছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার উত্তরা এলাকায় সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করার সময় গুলিবিদ্ধ হন স্থানীয় একটি পোর্টালের সাংবাদিক। বছর বত্রিশের মেহেদী হাসান ঢাকা টাইমসের সাংবাদিক। সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশে কোনও ঘটনায় এত মানুষের প্রাণ যায়নি। রাত ৯ টার পর থেকে ইন্টারনেট পরিষেবাও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
উত্তরা এলাকাই বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি অশান্ত ছিল। সেখানে মৃত্যু হয় মোট পাঁচজনের। এছাড়া চট্টগ্রাম শহর এবং লাগোয়া এলাকাতেও সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে গোলমালের খবর এসেছে অন্য শহর থেকেও। ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন অর রশীদ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দাবি করেছেন, সংঘর্ষে জড়িতদের বেশিরভাগই ছাত্র নন। হামলাকারীদের তাঁরা চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীরা সারা দেশ স্তব্ধ করার ডাক দিয়েছিল। সেই কর্মসূচি সফল করতে সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ, টোল প্লাজা ভাঙচুর, বাসে আগুন, পুলিশের গাড়িতে হামলা, পুলিশ চৌকিতে আগুন দেয়। পুলিশ ও বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের জওয়ানদের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
সন্ধ্যার আগে ঢাকার রামপুরায় বাংলাদেশের সরকারি টেলিভিশন চ্য্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বি-টিভির সদর দফতরে ঢুকে পড়ে আন্দোলনকারীরা। সেখানে পার্ক করা সব গাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ভবন লক্ষ্য করে আগুনের গোলা ছোড়ে তারা। তাতে ভবনের বড় অংশে আগুন লেগে যায়। ভবনের ভিতর আটকে পড়েন বি-টিভির কর্মীরা। তারা দমকলকে খবর দিলেও পথ অবরোধের কারণে দীর্ঘ সময় অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী আসতে পারেনি। আগুনে টেলিভিশন চ্যানেলের অনেকটা অংশ বিকল হয়ে যাওয়ায় সম্প্রচার বন্ধ হয়ে আছে। এখনও তা চালু করা সম্ভব হয়নি।
বি-টিভির উপর হামলা হতে পারে আশঙ্কা করে বৃহস্পতিবার সকালেই সেখানে বিজিবি-র জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু অতর্কিতে হওয়া হামলা তারা আটকাতে পারেনি। ঢাকার দমকল বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার শহরে আন্দোলনকারীরা মোট ২৫টি জায়গায় আগুন দেয়।
এদিকে, বাংলাদেশ সরকার দুপুরে আন্দোলকারীদের আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলেও তাতে সাড়া মেলেনি। তবে সরকার আদালতে দ্রুত কোটা বিতর্কের নিষ্পত্তি করতে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। শীর্ষ আদালত তাতে সাড়া দিয়ে রবিবার কোটা মামলার শুনানি করতে সম্মত হয়েছে।
কোটা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একাংশ। তাঁরা হিংসারও নিন্দা করেছেন। দু-পক্ষকেই সংযত হতে আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। এপার থেকে গায়ক কবীর সুমন ও অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। হিংসা বন্ধের আর্জি জানিয়েছেন কবীর সুমন।