বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন। একই সঙ্গে নেওয়া হবে জুলাই সনদের উপর গণভোট। রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা বাড়ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 December 2025 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন কয়েক মিনিট আগে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছেন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই সনদের উপর গণভোট। অর্থাৎ প্রত্যেক বুথে দুটি করে ব্যালট বাক্স থাকবে। ভোটাররা দুটি করে ভোট দেবেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে মোট আসন সংখ্যা ৩০০।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের একটি হল, আওয়ামী লিগকে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের নিবন্ধন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো জুলাই সনদের উপর গণভোট। বাংলাদেশে অতীতের তিনবার গণভোট সংঘটিত হলেও এই প্রথম জাতীয় সংসদের সঙ্গে একত্রে তা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
আওয়ামী লিগ অতীতে অন্যান্য দলের সঙ্গে নির্বাচন বয়কট করেছিল। প্রথমবার হুসেন মহম্মদ এরশাদের শাসনামলে, ১৯৮৮ সালে। দ্বিতীয়বার ১৯৯৬ তে। ক্ষমতায় তখন খালেদা জিয়া। তবে এবার দলটিকে নির্বাচনে অংশ নিতে দিচ্ছে না অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি বছরের ১২ মে আওয়ামী লিগকে সন্ত্রাস দমন আইনে বেআইনি ঘোষণা করেছে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্ভুক্তি সরকার। তারপরই নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে দেয়। আওয়ামী লিগের নৌকা প্রতীকও কালিকা থেকে সরিয়ে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন।
গতবছর ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের পর গত ১৬ মাসে অনেক রাজনৈতিক উত্থান পতন ঘটেছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির দাবি মেনে তৈরি হয়েছে জুলাই সনদ। সেই সনদের ওপর ১২ মে গণভোট সংঘটিত হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে গণভোটের জন্য ব্যালট পেপারে চারটি প্রশ্ন থাকবে। এই চার বিষয়ে ভোটাররা হ্যাঁ বা না বাক্সের টিক মেরে নিজেদের রায় দেবেন। প্রশ্নগুলি হল,
১. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলির প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলি বাধ্য থাকবে।
৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের কোথায় তাল মিলিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বৃহস্পতিবার দেশবাসীকে উৎসবের মেজাজে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দলগুলিকে নির্বাচনের বিধিমালা মেনে চলার আর্জি জানান।