
শেষ আপডেট: 19 October 2023 12:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে এবার ৩২ হাজার দুর্গাপুজো হচ্ছে। গতবারের থেকে ২৪০টি বেশি। বিগত কয়েক বছরের অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে এবার পুজো প্যান্ডেল এবং হিন্দু মহল্লায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি গতবারে তুলনায় বেশি। ইতিমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে ঠাকুর দেখা। কিন্তু এবার শারদোৎসবকে ছাপিয়ে এখনও পুরোদস্তুর রাজনৈতিক উত্তাপ বিরাজ করছে দেশটিতে। পুজোর মধ্যেও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লিগ ও বিএনপি-সহ বিরোধী দলগুলি।
দেশটির আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার পতনের আন্দোলনে চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পার্টি বিএনপি। আগামী ২৮ অক্টোবর তারা সরকার পতনের মহাযাত্রা বা লং মার্চের ডাক দিয়েছে। ওই দিন ঢাকায় বড় সমাবেশ করবে দলটি। দলের মহাসচিব মির্জা ফররুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা করেছেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত মহাযাত্রা চলবে। বিএনপি রাস্তা থেকে সরবে না।
বিরোধী দলের এই কর্মসূচির পাল্টা হিসাবে আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াবদুল কাদের ঘোষণা করেছেন, নির্বাচন পর্যন্ত দল রাস্তায় থাকবে। বিএনপি-কে কোনওভাবেই রাস্তা দখল করতে দেওয়া হবে না। বিরোধী ও শাসক দলের পাল্টাপাল্টি এই কর্মসূচি ঘিরে পুজোর মধ্যেও রাজনীতির উত্তাপ পুরোমাত্রায় বিরাজ করছে দেশটিতে। স্বভাবতই পুলিশ-সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঘুম ছুটেছে। বিএনপির অভিযোগ, পুলিশ তাদের কর্মী-সমর্থকদের জেলে পুরতে ব্যস্ত। অন্যদিকে, শাসক দলের জবাব, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষে পুরনো মামলায় অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেফতার করা শুরু করেছে। নতুন করে কারও বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়নি।
এরই মধ্যে বিএনপি-র লং মার্চের ঘোষণার পরিণতি নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের চিন্তা বেড়েছে। এমনিতেই দেশে জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্যে জনজীবন বিপর্যস্ত। তারমধ্যে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে রোজ যানজটে জেরবার হতে হচ্ছে শহরের মানুষকে। রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বেন। তাছাড়া রক্তক্ষয়, প্রাণহানির আশঙ্কা তো আছেই। এই সমস্ত বিষয় বিবেচনায় রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে।
লং-মার্চ শুরুর জন্য কেন ২৮ অক্টোবর বেছে নিয়েছে বিএনপি? আসলে ২০০৬ সালে ওই দিনটি ছিল তৎকালীন বিএনপি-র নেতৃত্বাধীন চারদলীয় সরকারের শেষ দিন। সেদিন ঢাকা-সহ বাংলাদেশের বহু এলাকা রক্তাক্ত হয়েছিল আওয়ামী লিগের সঙ্গে বিএনপি-জামাত-ই-ইসলামির জোটের সংঘর্ষে। বিএনপি যাতে তাদের পছন্দের লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাথায় বসাতে না পারে সে জন্য মরণপণ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। দু’বছরের মাথায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া নির্বাচনে জয়ী হয়ে ফের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। বিএনপি এখন হাসিনাকে সরিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোটের দাবিতে পথ দখলের ডাক দিয়েছে। কর্মী-সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রতীকী হিসাবেই তারা ২৮ অক্টোবরকে চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য বেছে নিয়েছে।
জবাবে আওয়ামী লিগ বুধবার শেষবারের মতো জানিয়ে দিয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্নই ওঠে না। শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই যথাসময়ে ভোট হবে।
এই বার্তা স্পষ্ট করার পর আওয়ামী লিগ ধারাবাহিকভাবে পথে থাকার কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। শুক্রবার মহাষষ্ঠীর দিনে তারা ঢাকার পুরনো বিমানবন্দর তেজগাঁওয়ে সমাবেশের ডাক দিয়েছে। ২৩ অক্টোবর মহানবমীতে ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে মেট্রোরেলের আগারগাঁও-মতিঝিল অংশের উদ্বোধন উপলক্ষে মিছিল করবে আওয়ামী লীগ। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। ২৫ অক্টোবরও শাসক দল ঢাকায় মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লিগ এই কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘আনন্দ মিছিল।’ দলের বক্তব্য, হাসিনা সরকার যখন একের পর এক প্রকল্প দেশবাসীকে উপহার দিচ্ছে তখন বিএনপি ধ্বংসের রাজনীতি আমদানি করছে।
২৮ অক্টোবর বিএনপি যখন ঢাকায় লং মার্চের সূচনা করবে তখন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা থাকবেন চট্টগ্রামে। সেখানে কর্ণফুলি নদীর নিচ দিয়ে তৈরি রাস্তা বঙ্গবন্ধু টানেলের উদ্বোধন করবেন তাঁর কন্যা। সেই অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রামে দলের মহা মিছিলে হাঁটবেন আওয়ামী লিগের সভাপতি হাসিনা।
আগের দিন ঢাকার মতিঝিল এলাকায় মেট্রোরেল উদ্বোধন উপলক্ষে বড় জমায়েতের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লিগ। মেট্রোর উদ্বোধনের পর সমাবেশে ভাষণ দেবেন হাসিনা। ২৭ অক্টোবর আওয়ামী লিগ সভা করবে ঢাকার উত্তরায়। সব মিলিয়ে এবারের শারদোৎসবের আনন্দের পরিবেশকে কিছুটা হলেও গ্রাস করেছে রাজনৈতিক হিংসার বাতাবরণ।