
আওয়ামী লিগ কর্মী বিশ্বজিৎ সাহা।
শেষ আপডেট: 6 August 2024 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শান্ত দেশটা অশান্ত হয়ে উঠেছে। চোখের সামনে সবকিছু এভাবে বদলে যাবে কল্পনাও করেননি বিশ্বজিৎ সাহা। গত দু'দিনে চোখের সামনে বহু রক্ত ঝরতে দেখেছেন। বিপদ যে ক্রমশ সামনে এগিয়ে আসছে সেটা আন্দাজ করে প্রথমে বাড়ি ছেড়ে লুকিয়ে ছিলেন বাগানে। পরে পাসপোর্ট নিয়ে এক কাপড়ে দেশ ছেড়ে বাংলাতে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের কচুয়া বাগের হাটের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সাহা।
বিশ্বজিৎ জানায়, দীর্ঘদিন সে আওয়ামী লিগ পার্টির সাথে যুক্ত। সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালাতেই আওয়ামী লিগের নেতা, কর্মীদের ওপর নেমে আসছে আক্রমণ। সাতক্ষীরা, শ্যামনগর, প্রতাপনগর-সহ একাধিক এলাকায় আওয়ামী লিগের পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা।
বিশ্বজিতের কথায়, "বেঁচে থাকলে তবে তো সবকিছু। আন্দোলনকারীরা উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। বেছে বেছে আওয়ামী লিগের নেতা, কর্মীদের ওপরে হামলা হচ্ছে। আমার দোকানও লুটপাট করা হয়েছে। তাই পাসপোর্ট সঙ্গে করে বাংলায় আত্মীয় বাড়িতে চলে এসেছি।"
মঙ্গলবার সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেন তিনি। আপাতত উত্তর ২৪ পরগনায় এক আত্মীয় বাড়িতে থীকবেন। বিশ্বজিৎ বলছেন, "আমার তবু এদেশে আত্মীয় বাড়ি রয়েছে। কিন্তু যাদের নেই, তাঁদের কী অবস্থা সেটা ভাবতে গেলেও গা শিউড়ে উঠছে।"
নতুন করে বাংলাদেশে অশান্তির ঘটনায় ১৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন পুলিশ কর্মী, আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মী থেকে সাধারণ মানুষও। সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা দেশ ছাড়তেই নতুন উদ্যমে নেমে পড়েছেন আন্দোলনকারীরা। হামলা চালানো হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষত আওয়ামী লিগের অফিস এবং নেতা, কর্মীদের বাড়িতে। সাতক্ষীরায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃ্ত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে খবর, হামলার পাশাপাশি চলছে যথেচ্ছ লুটপাট। এবং সব শেষে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে আগুন। ফলে প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার মানুষ দেশ ছাড়ছেন।