1.webp)
অমিত শাহ ও বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান মুহম্মদ ইউনুস।
শেষ আপডেট: 24 September 2024 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝাড়খণ্ডে নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক তিক্ততা আরও একদফা চড়ল। বাংলাদেশিদের নিয়ে অমিত শাহর মন্তব্যে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সরকার এ ধরনের আপত্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করায় বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
কী বলেছিলেন অমিত শাহ? সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে দলের পরিবর্তন যাত্রায় বক্তব্য রাখছিলেন শাহ। সেখানেই তিনি বলেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সরকার গড়তে পারলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করা হবে। আমি আপনাদের সবাইকে ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সরকার গঠনের জন্য আবেদন জানাতে চাই। আমরা প্রত্যেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করব।
তিনি বলেন, এই জমি আদিবাসীদের। কিন্তু এখানে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। আদিবাসীর সংখ্যা ৪৪ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে। আর ২৫-৩০ বছরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীই এরাজ্যে সংখ্যাগুরু হয়ে যাবে। যেহেতু অনুপ্রবেশকারীরা জেএমএম, কংগ্রেস ও আরজেডির ভোটব্যাঙ্ক, তাই এখানকার সরকার জনকল্যাণের পরিবর্তে অনুপ্রবেশকারীদের কল্যাণে নিয়োজিত রয়েছে।
অমিত শাহর মন্তব্যে অসন্তোষ জানিয়ে সোমবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছে সেদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঢাকায় ভারতের উপহাইকমিশনার পবন ভাদের কাছে প্রতিবাদপত্র দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলায় আয়োজিত সমাবেশে অমিত শাহ বলেছিলেন, আমি আপনাদের সবাইকে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের জন্য আবেদন জানাতে চাই। অমিত শাহ দাবি করেন, রাজ্যের পাকুড় জেলায় ‘হিন্দুরা ঝাড়খণ্ড ছাড়ো’স্লোগান তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের বিষয়টি তদন্তের জন্য ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়ায় তিনি আদালতকে ধন্যবাদ জানান। এই তদন্তের জন্য কেন্দ্র শীঘ্র ঝাড়খণ্ড সরকারের সহায়তায় একটি কমিটি গঠন করবে।
মাস কয়েক আগে হওয়া লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতারা অভিযোগ করে বলেছিলেন, সাঁওতাল পরগনায় আদিবাসী জনসংখ্যা কমছে। আর ক্রমেই বাড়ছে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের’ সংখ্যা। এই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন অমিত শাহ।
এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনে পাঠানো প্রতিবাদপত্রে ভারত সরকারকে সে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এ ধরনের আপত্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করা থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদপত্রে বাংলাদেশ লিখেছে, প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল পদে থাকা কোনও ব্যক্তির এ ধরনের মন্তব্য বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করে।