
বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা
শেষ আপডেট: 13 December 2024 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব দু-দেশের সম্পর্কের উপর কোনও ছাপ ফেলবে না, ঢাকা সফরে গিয়ে বলে এসেছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। এবার একই সুরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা দিল বাংলাদেশ।
সে দেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান শুক্রবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ওপর যে ছায়া পড়েছে, দুই দেশের স্বার্থেই তা দূর করতে হবে।’ দু-দেশের মধ্যে একতাবদ্ধ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।
রিজওয়ানা হাসান বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনের একজন নামজাদা সংগঠক। মহম্মদ ইউনুসের সরকার পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সেই কাজের পাশাপাশি রিজওয়ানাকে সামগ্রিক বিষয়ে সরকারের অভিমত জানানোর দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস। বাংলাদেশ প্রশাসন সূত্রের বক্তব্য, রিজওয়ানা নানা ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানই তুলে ধরেন।
ঢাকা সফরে গিয়ে ভারতের বিদেশ সচিব স্পষ্ট করে দিয়ে এসেছিলেন, শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিলেও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে নয়াদিল্লির কোনও আপত্তি নেই। নতুন সরকারের সঙ্গেও সু-সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেন তিনি। বস্তুত, মহম্মদ ইউনুস দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোনালাপে তাঁকে আস্বস্ত করেছিলেন নতুন সরকারের সঙ্গেও সমানতালে দু-দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী ভারত।
ঢাকা সফরে বিদেশ সচিব একথাও বলে আসেন, সংখ্যালঘু নিপীড়নের ইস্যুতে ভারত সরকার সরব হলেও দু-দেশের সম্পর্কে তার প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না। হঠাৎ সামনে আসা কোনও ঘটনার প্রেক্ষিতে অবস্থানকে দু-দেশের সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে দেখা চলবে না।
লক্ষণীয় বিদেশ সচিব নয়াদিল্লি ফিরে আসার পর পরই বাংলাদেশ সরকার হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানায়। শুক্রবার ইউনুস সরকারের গুরুত্বপূণ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানও ভারতের সুরেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন, যা অনেকটাই নতুন কথা। এতদিন ঢাকার নয়া নেতৃত্ব ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা শর্ত জুড়ে কথা বলছিলেন। বিশেষভাবে জোর দেওয়া হচ্ছিল সমমর্যাদায়। সেই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা বন্ধের মতো শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার ইউনুসের পরিবেশ, বন ও জয়বায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা দু-দেশের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।