Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র: বাংলাদেশের জন্ম সনদ

আজ বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র: বাংলাদেশের জন্ম সনদ

শেষ আপডেট: 10 April 2025 12:31

এম. নজরুল ইসলাম 

আজ বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) ও তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে বাংলাদেশ সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভা বা সরকার গঠনের ভিত্তি ছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচন। ফলে প্রবাসী সরকার গণতান্ত্রিক রূপ পেয়েছিল। প্রবাসী সরকার গঠিত হওয়ার পর যুদ্ধকে সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার জন্য দেশি-বিদেশি সহায়তায় কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ঢাকা এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যান্য অংশে আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক গণহত্যা চালায়। এই গণহত্যার প্রাক্কালে তৎকালীন আওয়ামী লিগ নেতৃবৃন্দ, গণপরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যগণ নিরাপত্তার জন্য সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। ৩০ মার্চের মধ্যেই তাঁদের অনেকে কলকাতায় সমবেত হন। প্রাদেশিক পরিষদের যেসব সদস্য ১০ এপ্রিলের মধ্যে কলকাতায় পৌছতে সক্ষম হন তাঁদের নিয়ে তাজউদ্দীন আহমদ মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। তাঁর নির্দেশেই অধ্যাপক রেহমান সোবহান আরও কয়েকজনের সাহায্য নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের একটি খসড়া প্রণয়ন করেন। এরপর ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম এই ঘোষণাপত্রের আইনগত দিকগুলো সংশোধন করে একে পূর্ণতা দান করেন।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র মূলত সেই রাষ্ট্রের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তিকে সুস্পষ্ট করে তোলে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র যেকোনও রাষ্ট্রের জন্য একটি মহামূল্যবান দলিল। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বাংলাদেশকে দিয়েছিল আইনগত ভিত্তি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বতন্ত্র দেশ হিসেবে পরিচিতি। আজকের এই দিনটি তাই আমাদের স্মরণ করতে হবে।

এই ঘোষণাপত্রটি প্রথমে ১০ এপ্রিল মুজিবনগর থেকে প্রচার করা হয়। এরপর আবার ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে গণপরিষদের সদস্য অধ্যাপক এম ইউসুফ আলি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে নবগঠিত প্রবাসী আইন পরিষদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে একই সঙ্গে এ ঘোষণাপত্র প্রবাসী সরকারের অবস্থান ও যৌক্তিকতা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করে। এদিনই ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কার্যকর হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। এর ফলে প্রবাসী মুজিবনগর সরকারও বৈধ বলে স্বীকৃত হয়। এ ঘোষণায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সবার মধ্যে চেইন অব কমান্ড স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘোষণাপত্রটি হুবহু এখনে তুলে ধরা যাক-
‘বাংলাদেশ গণপরিষদ দ্বারা ঘোষণা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
মুজিবনগর, বাংলাদেশ
তারিখ: ১০ এপ্রিল ১৯৭১

যেহেতু ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়েছিল;
এবং যেহেতু এই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লিগ দলীয় ১৬৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিল এবং যেহেতু জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সনের ৩ মার্চ তারিখে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিবেশন আহ্বান করেন এবং যেহেতু তিনি আহূত এই অধিবেশন স্বেচ্ছাচার এবং বেআইনিভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন; এবং যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করার পরিবর্তে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পারষ্পরিক আলোচনাকালে ন্যায়নীতি বহির্ভূত এবং বিশ্বাসঘাতকতামূলক যুদ্ধ ঘোষণা করেন; এবং যেহেতু উল্লিখিত বিশ্বাসঘাতকতামূলক কাজের জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান; এবং যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বর্বর ও নৃশংস যুদ্ধ পরিচালনা করেছে এবং এখনও বাংলাদেশের বেসামরিক ও নিরস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন গণহত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে; এবং যেহেতু পাকিস্তান সরকার অন্যায় যুদ্ধ ও গণহত্য এবং নানাবিধ নৃশংস অত্যাচার পরিচালনার দ্বারা বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিদের পক্ষে একত্রিত হয়ে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব করে তুলেছে; এবং যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপর তাদের কার্যকরি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে;

সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন সে ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা করছি এবং এর দ্বারা পূর্বাহ্নে শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করছি; এবং এতদ্বারা আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন; এবং রাষ্ট্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন; ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতাসহ সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতার অধিকারী থাকবেন; এবং তার কর ধার্য ও অর্থব্যয়ের ক্ষমতা থাকবে; এবং বাংলাদেশের জনসাধারণের জন্য আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতারও তিনি অধিকারী হবেন।

বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, কোনও কারণে যদি রাষ্ট্রপ্রধান না থাকেন অথবা যদি রাষ্ট্রপ্রধান কাজে যোগদান করতে না পারেন অথবা তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে যদি অক্ষম হন, তবে রাষ্ট্রপ্রধান প্রদত্ত সকল দায়িত্ব উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পালন করবেন।

আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, বিশ্বের একটি জাতি হিসাবে এবং জাতিসংঘের সনদ মোতাবেক আমাদের উপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তেছে তা যথাযথভাবে আমরা পালন করব।

আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সনের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য আমরা অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলিকে যথাযথভাবে রাষ্ট্রপ্রধান ও উপ-রাষ্ট্রপ্রধানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য দায়িত্ব অর্পণ ও নিযুক্ত করলাম।
স্বাক্ষর: অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলি
বাংলাদেশ গণপরিষদের
ক্ষমতা দ্বারা এবং ক্ষমতাবলে
যথাবিধি সর্বাধিক ক্ষমতাধিকারী।’

বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫০ (১) অনুচ্ছেদ এবং চতুর্থ তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বাংলাদেশের একটি ক্রান্তিকালীন অস্থায়ী বিধান হিসেবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হবে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি এখন সম্পূর্ণ আকারে বাংলাদেশের সংবিধানে সংযুক্ত করা হয়েছে (পঞ্চম তফসিল)। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের ৭ (খ) অনুচ্ছেদ একটি মৌলিক কাঠামো রূপে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দান করেছে। এর ফলে ঘোষণাপত্রটি বাংলাদেশের সংবিধানের একটি অসংশোধনযোগ্য বিধানে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সূত্র ধরেই ১৯৭২ সালে আমাদের সংবিধান প্রণীত হয়।

এই ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘আমাদের এই স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সনের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’ আর স্বাধীনতার ঘোষণা বিষয়ে আমরা তো জানি। বঙ্গবন্ধু তাঁর ঘোষণায় স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘ইহাই হয়তো আমাদের শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছ, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও। - শেখ মুজিবুর রহমান, ২৬ মার্চ ১৯৭১।’
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার মূল ইংরেজি ঘোষণাটি হল:
THIS MAY BE MY LAST MESSAGE. FROM TODAY
BANGLADESH IS INDEPENDENT. I CALL UPON THE PEOPLE
OF BANGLADESH WHEREVER YOU MIGHT BE AND WITH
WHATEVER YOU HAVE, TO RESIST THE ARMY OF
OCCUPATION TO THE LAST. YOUR FIGHT MUST GO ON UNTIL
THE LAST SOLDIER OF THE PAKISTAN OCCUPATION ARMY 
EXPELLED FROM THE SOIL OF BANGLADESH AND FINAL
VICTORY IS ACHIEVED. - Sheikh Mujibur Rahman (March 26,
1971)

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র মূলত সেই রাষ্ট্রের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তিকে সুস্পষ্ট করে তোলে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র যেকোনও রাষ্ট্রের জন্য একটি মহামূল্যবান দলিল। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বাংলাদেশকে দিয়েছিল আইনগত ভিত্তি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বতন্ত্র দেশ হিসেবে পরিচিতি। আজকের এই দিনটি তাই আমাদের স্মরণ করতে হবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দেশকে ফের পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা চলেছিল। বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ ফের স্বাধীনতার ধারায় ফিরেছিল। সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ্যে দ্রুত এগিয়ে চলেছিল। ঠিক তখন পাকিস্তানের দোসররা মানুষ হত্যা ও জঙ্গি-সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে ৫ আগস্ট নির্বাচিত সরকার প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জোর করে দেশ ত্যাগে বাধ্য করে। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তারা পাকিস্তানীদের মাস্টারপ্ল্যান মতো সর্ব প্রথম বাঙালির স্বাধিকার-স্বাধীনতা আন্দোলনের সূতিকাগার ঐতিহাসিক ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়। বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। ঢাকাসহ সারা দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ও ম্যুরাল এবং মুক্তি সংগ্রামের স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও উপড়ে ফেলে। আওয়ামী লিগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে শাখা কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্টসহ জাতীয় আট দিবস বাতিল করে। দেশের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলিগকে নিষিদ্ধ করে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার আসামিদের খালাস করে দেয়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় 'জয় বাংলা' স্লোগান জনগণকে তাদের মুক্তিসংগ্রামে প্রবলভাবে প্রেরণা যুগিয়েছিল। 
'জয় বাংলা' স্লোগানে দেশ, রাজনীতি, সংস্কৃতি, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ প্রকাশ পায়। যুদ্ধ জয়ের পর মুক্তিযোদ্ধারা চিৎকার করে 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে জয় উদ্‌যাপন করত।

মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাস ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঙালির প্রেরণার উৎস এই 'জয় বাংলা' কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ আপিল বিভাগের মাধ্যমে স্থগিত করিয়েছে চেপে বসা অবৈধ সরকার।

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লিগ সভাপতিসহ দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শতশত মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, হত্যা, সন্ত্রাস চলছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও দেশের মানুষদের রক্ষার জন্য এবং অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ৭১-এর খুনি-ধর্ষক-রাজাকারদের দোসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসদের অবিলম্বে হটানোর শপথ নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হবে। 

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করলেও যুদ্ধের ময়দান থেকে যেন ঘরে ফেরা হয়নি বাঙালি জাতির। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। 
আজ এই ঐতিহাসিক দিনে স্বাধীনতা ও বিজয়ের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ৩০ লাখ শহিদ ও সম্ভ্রমহারা মা-বোনদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা প্রদানকারী সবাইকে। অন্যদিকে, আমরা ঘৃণা জানাচ্ছি পাকিস্তান বাহিনীকে সহযোগিতাকারী এই দেশেরই কিছু কুসন্তানকে।

লেখক: সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লিগের সভাপতি, মানবাধিকার কর্মী, লেখক, সাংবাদিক


```