
শেষ আপডেট: 5 August 2024 14:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে রবিবার সন্ধ্যা থেকে কার্ফু জারি আছে। কার্ফু উপেক্ষা করেই সোমবার সকাল থেকে রাজধানী ঢাকায় বিপুল সংখ্যায় মানুষ জ্ড়ো হয়েছেন শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে। সেনাবাহিনী তাদেরকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।
অন্যদিকে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সেনা সদরে দেশের কয়েকটি বিরোধী দলের নেতা এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্টজনদের ডেকে বৈঠক করছেন।সোমবার বেলা দুটোয় তাঁর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। সেই কর্মসূচি এক ঘন্টা পিছিয়ে গিয়েছে।
সেনা সদরে সেনাপ্রধানের বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি ছাত্রদের আন্দোলনকে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং নিয়ন্তন করছেন বলে খবর। বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।
দেশে সরকার থাকা সত্ত্বেও সেনাপ্রধানের এই তৎপরতা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি বেলা দুটোর পরিবর্তে তিনটের সময় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন বলে ঠিক আছে। কিন্তু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে সেনাপ্রধানকে এই কাজে কি সরকার এগিয়ে দিল, নাকি তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়েছেন।
দ্বিতীয়টি হয়ে থাকলে তা সরকারের জন্য অস্বস্তির এবং এর ভবিষ্যৎ পরিণতি দেশের জন্য ভাল নাও হতে পারে কেউ কেউ বলছেন। নাগরিকদের মেজাজ বুঝে সেনাপ্রধান মার্শাল ল চালু করা সুপারিশ করতে পারেন। সেই সূত্র ধরে অতীতের মতো দেশে সেনা শাসন কায়েম হওয়াও অসম্ভব নয়। তবে সবটাই জল্পনা এবং চলতি পরিস্থিতিতে তা মাত্রা ছাড়িয়েছে।
এ কথা ঠিক রাজনৈতিক দল এবং আন্দোলনকারীরা সরকারকে পুরোপুরি বর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আন্দোলনকারীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সেনাপ্রধান এই পরিস্থিতিতে আলোচনার বিকল্প রাস্তা খুললেন কিনা তা নিয়েও চর্চা চলছে। একটি বিষয় তাৎপর্যপূর্ণ তাহল, চলতি অশান্তিতে পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ চরমে উঠলেও সেনার বিরুদ্ধে তেমন কোন অসন্তোষ নেই। সেনাবাহিনী এখনও পর্যন্ত এক দুটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া কোথাও গুলি চালায়নি। তারা মানুষকে অপদস্ত করছে, অতীতের মতো এমন অভিযোগও ওঠেনি। এরই
মধ্যে শনিবার সেনাপ্রধান বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে পর দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন সেনা যে কোন পরিস্থিতিতে জনসাধারণের পাশে থাকবে। এখন দেখার বেলা তিনটে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান কী বলেন। প্রসঙ্গত রবিবার সেনাবাহিনীর তিন প্রধানের সঙ্গে গণভবনে দীর্ঘ বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।