বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না থাকলেও দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অতীতের মতো আজও আপসহীন।

শেষ আপডেট: 6 March 2026 23:58
৭ মার্চ বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের অমর প্রেরণার দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে একটি পরাধীন জাতিকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত প্রস্তুতির নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই ভাষণ ছিল কেবল বক্তব্য নয়—ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা, ছিল সংগ্রামের শপথ, ছিল দিকনির্দেশনামূলক রাজনৈতিক কৌশল। বাঙালির ইতিহাসে মার্চ কেবল ক্যালেন্ডারের একটি পাতা নয়; এটি একটি জাতির জেগে ওঠার, শিকল ভাঙার এবং আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার মহাকাব্য। ১৯৭১ সালের এই মার্চ মাসেই রচিত হয়েছিল একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের মানচিত্র।
আজ যখন বাংলাদেশ এক জটিল রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, তখন ৭ মার্চের চেতনা আমাদের নতুন করে পথ দেখায়। ক্ষমতা হারানো বা ক্ষমতায় থাকা—এটাই রাজনীতির শেষ কথা নয়। জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা করাই প্রকৃত রাজনীতির মূল ভিত্তি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না থাকলেও দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অতীতের মতো আজও আপসহীন।
জনগণের অধিকার খর্ব করার যে কোনও অপচেষ্টা, ইতিহাস বিকৃতি কিংবা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির উত্থানকে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলির অন্যতম। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অন্যতম ভাষণ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের 'গেটিসবার্গ এড্রেস' (১৮৬৩) এবং মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের 'আই হ্যাভ আ ড্রিম' (১৯৬৩) নেলসন ম্যান্ডেলা, রানী এলিজাবেথ - টিলবারির ভাষণ, ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট, জহরলাল নেহরু, উইনস্টন চার্চিল- এঁদের সকলের ভাষণ ছিল লিখিত, আর বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল অলিখিত।
একারণে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ২০১৭ সালে ইউনেসকো তাদের ওয়েবসাইটে 'মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার'-এ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
অগ্নিঝরা মার্চ কেবল ইতিহাসের কোনও অধ্যায় নয়, বরং এটি একটি জীবন্ত অনুপ্রেরণা। ৭ মার্চ আমাদের শেখায়—সংকট যত গভীরই হোক, সংগঠিত জনগণের শক্তির কাছে কোনও অন্যায় টিকতে পারে না। জাতির পিতার বজ্রকণ্ঠ আজও আমাদের কানে বাজে— ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই আমাদের অব্যাহত থাকবে।
এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-কে, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের এবং নির্যাতিত মা-বোনদের। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের রাজনৈতিক সংগ্রামের অনন্ত প্রেরণা।
লেখকঃ সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ। মতামত ব্যক্তিগত।