
শেষ আপডেট: 28 August 2024 14:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আভাস ছিলই। বুধবার তা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জামায়তে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামিক ছাত্র শিবির এবং অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের উপর থেকে নিয়েধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক শাখা বুধবার একটু আগে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছে, ‘সরকার বিশ্বাস করে যে বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামী এবং তার ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরসহ ও তাদের সকল অঙ্গ সংগঠন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত নয়।’
বলা হয়েছে, জামায়তে ইসলামী এবং ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গত ১ অগাস্ট যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল সেটি বাতিল করা হল। এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। বুধবার সরকারের সিনিয়র সচিব মহম্মদ আবদুল মোমেনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই দুই সংগঠনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার কোনও তথ্য-প্রমাণ সরকারের কাছে নেই।
হাসিনা সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে জামাত ও ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণার কারণ হিসাবে বলা হয়েছিল ওই দুই সংগঠন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার পাশাপাশি দেশে নানা ধরনের নৈরাজ্যের ঘটনায় যুক্ত। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্তততার কথাও বলা হয়েছিল বিজ্ঞপ্তিতে।
বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে দেখা করে আর্জি জানিয়েছিলেন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার। অবশ্য ৫ অগাস্ট হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই জামায়তে ইসলামী পুরোদমে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে দেয়।
বিএনপির অন্যতম রাজনৈতিক সঙ্গী জামাত বরাবর আমেরিকার প্রশ্রয় পেয়ে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী নাশকতা, জঙ্গি ও মৌলবাদের বিরোধিতা করলেও বাংলাদেশে জামাতকে তারা একটি ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সংগঠন বলে মনে করে। যদিও জামাত একটি রাজনৈতিক দল। যদিও তাদের নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল হয়ে গিয়েছে। ফলে ভোটে অংশ নিতে পারে না তারা।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করার অভিযোগ রয়েছে ওই সংগঠনের বিরুদ্ধে। সে দেশে তাদের প্রথম নিষিদ্ধ করেছিলেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী, পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৮ সালে জামাতের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন সেনা রাষ্ট্রপতি তথা বিএনপি-র প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান।