
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 27 November 2024 23:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই শীর্ষ নেতা সাররজিস আলম এবং হাসনাত আবদুল্লাহর কনভয়ের একটি গাড়ি বুধবার রাতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই ঘটনায় দুই ছাত্রনেতা সহ কনভয়ের গাড়িতে থাকা কারও আঘাত লাগেনি। একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাত্র। তবে এই ঘটনা ভিন্নমাত্রা পেয়েছে ছাত্র নেতাদের অভিযোগের কারণে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব তড়িঘড়ি বলেছে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। সারজিস ও হাসনাতকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ইসকন এবং ভারত। ছাত্র নেতাদের অভিযোগ, অতীতে বাংলাদেশে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র' বিশিষ্ট নেতাদের হত্যা করেছে। সারজিস, হাসনাতদের হত্যার চেষ্টা করেছিল ইসকন এবং 'র'-এর এজেন্টরা।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে ছাত্র নেতাদের এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়া চলতি উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে। ইসকনের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে সে দেশের উগ্র ইসলামপন্থী দলগুলি। বুধবারই চট্টগ্রাম শহরে ইসকনের একটি আশ্রম থেকে সাধুদের বের করে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম শহরে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত সংখ্যালঘু মহল্লায় হামলা চলে। সংখ্যালঘুদের ভারতের দালাল বলে প্রচার করে দেশছাড়া করার হুমকি দেয় হামলাবাজরা। এই পরিস্থিতিতে তদন্ত ছাড়াই ছাত্র নেতারা গাড়ি দুর্ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে ভারত ও ইসকনের দিকে আঙুল তোলায় সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ আরও বেড়ে যেতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন।
সারজিস বর্তমানে জুলাই -অগাস্ট শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। বুধবার তাঁরা চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন মঙ্গলবার বন্দর শহরে নিহত আইনজীবীর শেষকৃত্বে অংশ নিতে। সেখান থেকে সন্ধার পর ঢাকা ফেরার পথে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হাজি রাস্তার মোড় এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে তাঁদের কনভয় দুর্ঘটনায় কবলে পড়ে। একটি ট্রাক কনভেয়র একটি গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে গতি বাড়িতে পালিয়ে যায়। মোবাইলে খবর পেয়ে চট্টগ্রামের ছাত্র নেতারা একটি ট্রাককে আটক করে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফতেমা ঢাকায় জানান, ট্রাক চালক ধাক্কা দেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এদিকে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের কবর জিয়ারত করে ফেরার পথে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের কনভয়ে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে চালক ময়মনসিংহ থেকে কক্সবাজারে মালপত্র খালাস করে আসার কথা বললেও কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। অতীতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা করেছে। ওই নেতার বক্তব্য সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।