
চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ও মহম্মদ ইউনুস। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 December 2024 08:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখতে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রিকে ঢাকা সফরে পাঠালেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট নয়াদিল্লি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা অব্যাহত। হিন্দু মন্দির ভাঙচুর, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষককে জোর করে পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করার মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে।
আগামী সোমবার একদিনের জন্য ভারতের বিদেশ সচিব ঢাকা যাচ্ছেন। দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মহন্মদ জসীম উদ্দীনের সঙ্গে দিনভর বৈঠকের ফাঁকে সে দেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস ভারতের বিদেশ সচিবের সঙ্গে দেখা করেন কি না তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।
বৈঠকে নদীর জল বণ্টন, বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময়-সহ দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতের অগ্রাধিকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুদের নিরাপত্তা। অন্যদিকে, বাংলাদেশ চায়, শেখ হাসিনার মুখ বন্ধে ব্যবস্থা নিক ভারত সরকার। সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বলা হোক ভারতে বসে দেশের রাজনীতি নিয়ে কথা না বলতে।
তবে বিক্রম মিশ্রির সফরের আগে হিন্দু সাধু চিন্ময় কৃষ্ণকে নিয়ে দেশেই দ্বিমুখী চাপের মুখে পড়েছে ইউনুস সরকার। ঢাকায় ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে কবি, প্রাবন্ধিক, মানবতাবাদী ফরহাদ মজাহার চিন্ময় কৃষ্ণের গ্রেফতারি এবং জামিন না দিয়ে জেলে আটকে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে প্রধান উপদেষ্টাকে পরামর্শ দেন তিনি। যদিও এই বক্তব্যের জন্য সমাজমাধ্যমে তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েছেন তিনি।
জানা যাচ্ছে, মজহারের পরামর্শ মেনে চিন্ময় কৃষ্ণকে জামিন দেওয়ার ব্যাপারে আলাপ আলোচনা শুরু করেছিল বাংলাদেশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। কিন্তু সরকারের অভ্যন্তর থেকেই আপত্তি উঠেছে। জামাতপন্থী উপদেষ্টাদের পাশাপাশি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব বেঁকে বসেছে। তাঁদের বক্তব্য, চিন্ময়কে মুক্তি দিলে একই ধরনের অভিযোগে ধৃত মুসলিমদের ক্ষেত্রেও সমান পদক্ষেপ করতে হবে সরকারকে। চিন্ময়কে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দেশদ্রোহিতার মামলায় গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে, ভারতের বিদেশ সচিব মিশ্রি ঢাকা সফরের কথা ভারত সরকার সরকারিভাবে ঘোষণার পর বাংলাদেশের সীমান্ত লাহোয়া জেলা কুষ্টিয়ায় একটি কালী মন্দিরে হামলা করে দুষ্কৃতীরা। প্রশাসনিক গাফিলতির কারণেই এই জাতীয় ঘটনায় লাগাম দেওয়া যাচ্ছে না বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেনকে বাধ্য করা হয়েছে পদত্যাগ করতে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই উপাচার্যকে সরে যেতে লাগাতার চাপ দিচ্ছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অভিযোগ তিনি আওয়ামী লিগ ঘনিষ্ঠ। যদিও ড. সেন দাবি করেছেন, আওয়ামী লিগের কার্যকর্মের প্রতি বিতশ্রদ্ধ হয়ে তিনি বেশ কয়েক বছর আগেই দলের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগকেও সংখ্যালঘু নিপীড়নের ঘটনা হিসাবেই দেখা হচ্ছে। বিগত দিন দশ যাবত তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি, বিক্ষোভ ইত্যাদি চললেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। নিরাপত্তার কারণে শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় পদ থেকে ইস্তফা দেন। পদত্যাগ করেন উপ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষও।