শিশু হোক বা বয়স্ক—নিউরোসাইকিয়াট্রিক সমস্যা (Neuro Psychiatric Problem) নীরবে বাড়তে পারে। মনোযোগের ঘাটতি, আচরণ বদল, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা—কোন লক্ষণগুলো বিপদের ইঙ্গিত দেয়, জানুন কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

ডক্টর শ্রীকান্ত শ্রীনিবাসন, চেন্নাই অ্যাপোলো
শেষ আপডেট: 12 February 2026 12:56
শিশুদের মধ্যে সারাক্ষণ বসে থাকা, মানসিক অবসাদ, অল্পতেই রেগে যাওয়ার প্রবণতা আজকাল বেড়েছে। এর পিছনে রয়েছে নিউরোসাইকিয়াট্রিক কারণ। যদিও এখনও এ ব্যাপারে সচেতনতা তেমন নেই। নিউরোডাইভার্সিটির মতোই পরিচিত হতে হবে নিউরোসাইকিয়াট্রিক সমস্যা নিয়ে। শিশুরাই শুধু নয়, বয়স্কদের মধ্যেও এই সমস্যা বাড়ছে।
কীভাবে প্রকাশ পায়?
শিশুদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বেশি কথা বলে না, কোনও কিছুতে বেশিক্ষণ মন বসে না, কেউ আবার খুব বেশি অ্যাকটিভ এমন লক্ষণ দেখা যায়।
বর্তমানে অটিজম শিশুদের মধ্যে খুব বেড়েছে। যদিও এ ব্যাপারে সচেতনতা বেড়েছে। এখন নিউরোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট সকলে মিলে যৌথভাবে চিকিৎসা করছে। আগে এক দ্রুত রোগ নির্ণয় হতো না। এখন অটিজম রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার একটাই কারণ, তা হল রোগ নির্ণয় হচ্ছে। এব্যাপারে বাবা-মায়ের মধ্যে সচেতনতাও বেড়েছে।
কী কী কারণ?
১. একদম ছোট বয়স থেকে মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি। বাবা-মায়েরা ব্যস্ত থাকায় শিশুরা মোবাইলে ব্যস্ত থাকে। ফলে পপকর্ণ ব্রেন হয়ে যায়। কোনও কিছুতে ফোকাস করতে পারে না, বেশিক্ষণ মনোসংযোগ করতে সমস্যা হয়, মনে খারাপ চিন্তা ভাবনার জন্ম নেয়।
২.অ্যাডোলেসেন্ট বা কৈশোরে এই ধরনের সমস্যা ধীরে ধীরে কেটে যেতে থাকে এমনটা নয়। ছোটবেলা থেকে এই অভ্যাস পরবর্তীকালে সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা তৈরি করে। ভুল কাজ করে ফেলার প্রবণতা থাকে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সাইকিয়াট্রিস্টের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সঙ্গে কাউন্সেলিং করতে হবে।
৩. একটু বেশি বয়সে দেখা যায় হিডেন অ্যাংজাইটির জেরে অনেকেই জীবন শেষ করে দেন। সচরাচর এদের দেখলে বোঝা যায় না যে মনের ভিতরে কালো মেঘ জমেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন সব শেষ করে দেয়। এই অবসাদ, মন খারাপ আজকের দিনে খুবই বেড়েছে। তাই একটু চাপ পড়লেই সেটা মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলে একজনের জীবনে।
৪. বর্তমানে ব্রেন এজ দ্রুত বাড়ছে। কারণ ছোটবেলা থেকেই শিশুরা একা বড় হচ্ছে। ফলে মনখারাপ নিত্যসঙ্গী। ট্রেস মস্তিষ্কের বয়স বাড়ানোর কারণ। যার হাত ধরেই আসেই নিউরোসাইকিয়াট্রিক সমস্যা।
৫. বয়স্কদের মধ্যে ডিমেনশিয়া অসুখ বেশি দেখা যায়। দেখা যায় এই বয়স্কদের মধ্যে অল্পতেই ভুলে যাওয়ার প্রবণতা। একটু আগেই কী হলো ভুলে যান, এটিএমের পিন নম্বর অন্যকে বলে দেন, কোথায় কি রাখছেন, ওষুধ খেতে ভুলে যান। ধীরে ধীরে নিত্য কর্মে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে যা থেকে ডিমেনশিয়া দেখা দেয়। এদের প্রতি পরিবার-পরিজনের সহানুভুতিশীল হওয়া প্রয়োজন।
মেন্টাল হেলথে নজর দিন
মেন্টলহেলথ নিয়ে এখনও সচেতনতার অভাব রয়েছে। মনখুলে মনখারাপের কথা ডাক্তারবাবুর কাছে এসে অনেকেই আজও বলতে পারেন না। এখন সময় এসেছে সচেতন হওয়ার। তাই মনখুলে আমাদের জানান সমস্যার কথা। তাহলেই মনখারাপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সমস্যা সময়ে নির্ণয় হবে।
বেশিরভাগ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগী বিশ্বাসই করতে চান না যে তাঁদের মানসিক অবসাদ রয়েছে। এটা মেনে নিয়ে প্রিয়জনকে মনের কথা জানাতে হবে। তারপর চিকিৎসকের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় সমস্যা মিটতে পারে। লুকিয়ে রাখলেই বিপদ।