ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মেটফর্মিন না সেমাগ্লুটাইড— কোনটি আপনার জন্য বেশি উপযোগী? চিকিৎসকের মতে জানুন দুই ওষুধের কার্যকারিতা ও পার্থক্য।

ডায়াবেটিস কমাতে কোনটা কার্যকর (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 29 March 2026 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডায়াবেটিস (Diabetes) এখন ঘরে ঘরে। রক্তে শর্করার (blood sugar) মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না রাখলে স্নায়ুর ক্ষতি (nerve damage), কিডনি রোগ (kidney disease), হৃদরোগ (heart disease), রেটিনোপ্যাথি (retinopathy)-সহ একাধিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রায় বদল (lifestyle change) অত্যন্ত জরুরি, জানালেন ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালের (Indraprastha Apollo Hospitals) এন্ডোক্রায়নোলজির (Endocrinology) সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য (Dr. Saptarshi Bhattacharya)।
টাইপ ২ ডায়াবেটিসে (Type 2 Diabetes) দীর্ঘদিন ধরেই প্রথম সারির ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মেটফর্মিন (Metformin)। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেমাগ্লুটাইড (Semaglutide)— যা ওজেম্পিক (Ozempic)-এর মূল উপাদান— দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দু’টি ওষুধই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কিন্তু কাজের ধরন ও প্রভাব আলাদা।
মেটফর্মিন মূলত লিভারে (liver) গ্লুকোজ উৎপাদন কমায় এবং শরীরকে ইনসুলিনের (insulin) প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলে। অন্যদিকে সেমাগ্লুটাইড একটি জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট (GLP-1 receptor agonist), যা শরীরের হরমোনের মতো কাজ করে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায় ও গ্লুকাগন (glucagon) কমায়, ফলে রক্তে শর্করা কমে। পাশাপাশি এটি খিদে (appetite) নিয়ন্ত্রণ করে এবং খাবার হজমের গতি ধীর করে।
কার্যকারিতার দিক থেকে সেমাগ্লুটাইড এগিয়ে। HbA1c (HbA1c) যা তিন মাসের গড় রক্তশর্করা বোঝায়, তা মেটফর্মিনে সাধারণত ১ শতাংশের কম কমে, যেখানে সেমাগ্লুটাইডে ১.৫ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। শুধু তাই নয়, ওজন কমানো (weight loss), হার্ট অ্যাটাকের (heart attack) ঝুঁকি হ্রাস, কিডনি সুরক্ষা এবং ফ্যাটি লিভার (fatty liver) সমস্যায়ও উপকার করে এই ওষুধ। ইতিমধ্যেই মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) সেমাগ্লুটাইড অনুমোদন করেছে।
তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও (side effects) আছে। মেটফর্মিনে ডায়ারিয়া (diarrhoea), বমিভাব (nausea), পেটের অস্বস্তি দেখা যায়, তা সাধারণত মৃদু। সেমাগ্লুটাইডে প্রথম দিকে বমি, ডায়ারিয়া বেশি হতে পারে, এমনকি প্যানক্রিয়াটাইটিস (pancreatitis), পিত্তথলির সমস্যা (gallstone issues) ও দৃষ্টিজনিত সমস্যার (vision problems) ঝুঁকিও রয়েছে। তাই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি।
দু’টো ওষুধেই হাইপোগ্লাইসেমিয়ার (hypoglycemia) ঝুঁকি কম। তবে কোনটা বেশি উপযোগী, তা নির্ভর করবে রোগীর অবস্থার উপর। কম খরচ, দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও সহনশীলতার কারণে মেটফর্মিন এখনও প্রথম পছন্দ। অন্যদিকে, বেশি কার্যকারিতা ও ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সেমাগ্লুটাইড অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে।
চিকিৎসকদের মতে, দু’টি ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। তবে, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে।