চিকিৎসকের মতে, সবথেকে ভাল হয়, আজ যে ভাত খাওয়ার কথা, তা আগেরদিন বানিয়ে ফ্রিজে তুলে রাখা।

ডাঃ আশিস মিত্র
শেষ আপডেট: 8 April 2026 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাত খেলেই মোটা হয়ে যায় বা সুগার বাড়ে—এই ধারণা অনেকের মনেই আছে। কিন্তু এই প্রচলিত ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করলেন ডায়াবেটোলজিস্ট ও এনডোক্রায়নোলজিস্ট ডাঃ আশিস মিত্র। তিনি স্পষ্ট জানালেন, সমস্যা ভাতে নেই, আমরা কীভাবে খাচ্ছি, তাতে আছে (How to eat Rice)।
দ্য ওয়ালের প্রশ্নের উত্তরে ডাঃ মিত্র বলেন, 'ভাত খাওয়ায় আসলে সমস্যা নেই। সুগারের রোগীরা ভয় পান। কিন্তু ভাত একটু বুদ্ধি করে খাওয়াই যায়।'
চিকিৎসকের মতে, সবথেকে ভাল হয়, আজ যে ভাত খাওয়ার কথা, তা আগেরদিন বানিয়ে ফ্রিজে তুলে রাখা। ভাতের মারটা রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চে পরিণত হয়। ডায়াবেটিস যাদের আছে, এমন ভাত খেলে কিছু হয় না (Eating Rice is safe)। সুগার অত বাড়ে না। আলুও ওইভাবে খাওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি।
একই মত পুষ্টিবিদ কবিতা দেবগনেরও। তিনি মনে করেন, সমস্যা ভাতে নয়, বরং আমরা কীভাবে ভাত খাচ্ছি, তাতে।
সম্প্রতি একটি ভিডিওতে তিনি জানান, ভাত খারাপ নয়। শুধু ঠিক পদ্ধতিতে খেতে শিখতে হবে। সাফদরজং হাসপাতালে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই পুষ্টিবিদ ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে ভাত খেলে তা শরীরের জন্য উপকারী হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে গাট হেলথ এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
প্রথমেই তিনি পরামর্শ দেন, ভাত রান্নার সময় সামান্য ঘি মেশাতে। এতে তাড়াতাড়ি খিদে পায় না, পেট ভরা থাকে বেশি সময়, আর রক্তে শর্করার মাত্রাও ওঠানামাও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এছাড়া গরম ভাত খাওয়ার বদলে ‘কুক অ্যান্ড কুল’ পদ্ধতি মেনে চলার কথা বলেন তিনি। ডাঃ মিত্রর মতোই তিনিও জানান ভাত রান্না করে ঠান্ডা করে, এমনকি ফ্রিজে রেখে পরের দিন খেলে তা শরীরের পক্ষে বেশি উপকারী। এতে গ্লুকোজ স্পাইক কম হয় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।
তিনি আরও কিছু টিপস যোগ করেন এতে। যেমন- খাওয়ার ক্রম বদলানো জরুরি, অন্যান্যদের মতো একথা তিনিও বিশ্বাস করেন। প্রথমে ফাইবার -সমৃদ্ধ খাবার যেমন স্যালাড, সবজি বেশি করে খাওয়া উচিত। তারপর প্রোটিন- ডাল, দই, মাংস, ডিম। সব শেষে ভাত খেলে স্বাভাবিকভাবেই ভাতের পরিমাণ কমে যায় এবং শরীরও তা ভালভাবে গ্রহণ করে।
খাবার পরিমাণ এবং সময়ের দিকেও জোর দিয়েছেন তিনি। একবেলায় অতিরিক্ত ভাত খাওয়ার বিরোধিতা করে বলেন, 'দিনের বেলায় একটু বেশি, আর রাতে কম পরিমাণে ভাত খাওয়া শ্রেয়।' সঙ্গে রাতে ভাত খাওয়া একেবারেই বন্ধ না করার পক্ষে তিনি। বরং ঘুমের সমস্যা থাকলে রাতের খাবারে ভাত রাখা উচিত, কারণ এটি সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন বাড়িয়ে ভাল ঘুমে সাহায্য করে।
সবশেষে, ফারমেন্টেড ভাত—যেমন ইডলি, দোসা , বা পান্তা —খাওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর কথায়, “আমাদের ঠাকুমারা অনেক আগেই গাট হেলথের গুরুত্ব বুঝতেন।”
সব মিলিয়ে বার্তা একটাই—ভাত নয়, অভ্যাস বদলান। তাহলেই সুস্থ থাকবেন।