ড্যাড বড (Dad Bod) কী, কেন বয়স বাড়লে পেট বাড়ে, এই শরীর কতটা স্বাস্থ্যকর—জানুন বিশেষজ্ঞের মতামত ও সহজ টিপস।

আদুরে ভুঁড়ির নামই ড্যাড বড।
শেষ আপডেট: 30 January 2026 15:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শক্তিশালী পুরুষের (Fit and Healthy Man) শরীর মানেই সিক্স-প্যাক অ্যাবস (6 pack abs), চওড়া বুক আর শক্তপোক্ত পেশি (Muscleman)। এমনটাই এখনও অনেকেরই ধারণা।
তাই জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরিয়ে ফিট থাকার দৌড়ে পুরুষদের বড় অংশই নাম লেখায়। কিন্তু সময় বদলেছে। আজকের ব্যস্ত জীবনে, কাজ–সংসার–সন্তানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পুরুষ শরীরের এক নতুন পরিচয় সামনে এসেছে, যেখানে তাঁর পেশিবহুল চেহারাকে নয়, 'ড্যাড বড'কেই (Dad Bod) ভালবেসে ফেলছেন মহিলারা।
সহজ ভাষায় বললে, এমন এক পুরুষ শরীর, যেখানে পেটটা একটু নরম, কোমরের কাছে চর্বি জমেছে, কিন্তু বিরাট থলথলে ভুঁড়ি নয়। বয়স সাধারণত তিরিশ বছর বয়সের শেষ থেকে পঞ্চাশের মাঝামাঝি। এই ড্যাড বড অর্জন করার জন্য যে বাবা হতেই হবে, এমন কোনও কথা নেই কিন্তু! এই ‘ড্যাড এরা’-তে থাকা যে কেউ ছোট্ট ভুঁড়ির পুরুষই ড্যাড বডের আওতায় পড়ে।

কারও কারও কাছে যদিও এই নরম ভুঁড়ি মানে শরীরের প্রতি অবহেলা। তবে অনেকের কাছেই ড্যাড বড এক ধরনের গর্ব— যেন বলা হচ্ছে, 'আমি জিমে থাকি না ঠিকই, কিন্তু পরিবারে সময় দিই।' এমনকি বহু মেয়েও খোলাখুলিই বলেন, একটু পেটওয়ালা পুরুষ নাকি বেশি আপন আর আকর্ষণীয়।
ফ্যামিলি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডেভিড ব্রিল, ডিও (Dr. David Brill, DO) বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের মেটাবলিজম স্বাভাবিকভাবেই ধীরে হয়। তিরিশের পর অনেক পুরুষই আগের মতো খেলাধুলো বা নিয়মিত ব্যায়ামের সময় পান না। উপরন্তু, খাবারের অভ্যাস একই থাকলেও শরীর আগের মতো ক্যালোরি পোড়াতে পারে না।
আবার সন্তানের জন্ম হলে, তার পিছনেও খানিকটা সময় দিতে হয় বাবাদেরও। সেই ছোটবেলার রাত জাগা থেকে শুরু করে, বড় হয়ে স্কুলে পৌঁছনো পর্যন্ত। তার ফলে নিজের জন্য সময় কম দেওয়ায় ধীরে ধীরে পেটের চারপাশে জমে ওঠে ভিসেরাল ফ্যাট, সেটাই ড্যাড বডের মূল চিহ্ন।
এখানেই উঠেছে আসল প্রশ্ন। কারও ড্যাড বড থাকা মানেই তিনি অসুস্থ, তা নয়। আবার এটাও ঠিক, ড্যাড বড মানেই একেবারে নিরাপদে আছে শরীর, সেটাও নয়।
ডা. ব্রিল স্পষ্ট করে বলছেন, “শরীরের গঠনই স্বাস্থ্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। আপনাকে সিক্স-প্যাক অ্যাবস রাখতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। কিন্তু পেটের চারপাশে অতিরিক্ত মেদ জমা হলে সেটা শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।”

কারণ এই অতিরিক্ত পেটের মেদ থেকেই ধীরে ধীরে দেখা দিতে পারে তিন বড় হেল্থ রিস্ক, হাই ব্লাডপ্রেশার, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস। এই তিনটি সমস্যা একসঙ্গে হলে, ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, লিভার বা কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
অর্থাৎ, ড্যাড বড অনেক সময় নিঃশব্দে বলে দেয়—ভেতরে ভেতরে শরীর হয়তো ঠিক লাইনে নেই।
ডা. ব্রিলের মতে, আদর্শ লক্ষ্য হওয়া উচিত, পুরুষদের ক্ষেত্রে শরীরের ফ্যাট ২৫ শতাংশের নীচে রাখা এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ২৫–৩১ শতাংশের মধ্যে রাখা। এটা ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, আবার ঘরোয়া ক্যালিপার দিয়েও মাপা সম্ভব।
কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা—পারফেকশন নয়, ধারাবাহিকতা। ডা. ব্রিলের কথায়, “পারফেক্ট হতে চাইলে শেষ পর্যন্ত কিছুই করা হয় না।”
ভাল খবর হল, এর জন্য জিমে গিয়ে নিজেকে নিংড়ে ফেলতে হবে না। সময়ের ৮০ শতাংশ প্রাকৃতিক, ঘরোয়া খাবার খান, সপ্তাহে অন্তত ৬ দিন শরীর নড়াচড়া করুন। জিমে গিয়েই ব্যায়াম করতে হবে তার মানে নেই, হাঁটা, সাইকেল চালানো, হালকা দৌড়—সবই ব্যায়াম। তাই সন্তান থাকলে তাদের সঙ্গে খেলুন, দৌড়ঝাঁপ করুন। এতে শরীরও নড়বে, সম্পর্কও গভীর হবে।
সর্বোপরি, ড্যাড বড কোনও লজ্জার বিষয় নয়। আবার অযত্নের অজুহাতও নয়। এই শরীর আমাদের শেখায়, নিজেকে ভালবাসা জরুরি, কিন্তু নিজের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নেওয়াও সমান দরকার। তা করতে গিয়ে, সিক্স-প্যাক না থাকলেও চলবে। কিন্তু নিজের শরীরের ভাষা শুনতে শেখাটাই আসল ফিটনেস।