পলিপ থেকে ধীরে ধীরে বাড়ছে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি, সতর্ক করছে বিশেষজ্ঞরা। প্রথমে লক্ষণহীন থাকলেও সময়মতো ধরা না পড়লে হতে পারে মারাত্মক বিপদ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 March 2026 15:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিঃশব্দে বাড়ছে কোলোরেক্টাল ক্যানসার। লক্ষণ বুঝে ওঠার আগেই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে শরীরে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো স্ক্রিনিংই (Screening) বাঁচাতে পারে জীবন।
গাজিয়াবাদের (Ghaziabad) মণিপাল হাসপাতালের (Manipal Hospital) সার্জিক্যাল অনকোলজি (Surgical Oncology) বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. কুন্দন (Dr Kundan) জানিয়েছেন, কোলোরেক্টাল ক্যানসার (Colorectal Cancer) এমন একটি রোগ, যা শুরুতে প্রায় কোনও লক্ষণই দেখায় না। ফলে অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যান। আর ততদিনে রোগ জটিল আকার নেয়।
এই ক্যানসার সাধারণত কোলন (Colon) বা রেকটামের (Rectum) ভিতরের স্তরে ছোট পলিপ (Polyps) হিসেবে শুরু হয়। শুরুতে এগুলো ক্ষতিকর না হলেও সময়ের সঙ্গে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। ধীরগতির এই প্রক্রিয়াই রোগটিকে ‘নিঃশব্দ ঘাতক’ করে তুলেছে।
লক্ষণ হিসেবে পেটের অস্বস্তি (Abdominal Discomfort), ফাঁপা ভাব (Bloating), মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন (Bowel Habit Change) বা মলে রক্ত (Blood in Stool) দেখা যেতে পারে। তবে এগুলো এতটাই সাধারণ যে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। স্থূলতা (Obesity), ধূমপান (Smoking), খারাপ খাদ্যাভ্যাস (Poor Diet) এবং পারিবারিক ইতিহাস (Family History) থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, ৪৫ বছরের পর থেকেই নিয়মিত স্ক্রিনিং শুরু করা উচিত। ঝুঁকি বেশি থাকলে তার আগেও প্রয়োজন হতে পারে। ডা. কুন্দনের কথায়, সময়মতো স্ক্রিনিং করলে রোগ প্রাথমিক অবস্থাতেই ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা অনেক সহজ হয়।
এই রোগ ধরতে ঠিক কোন পরীক্ষা করবেন?
চিকিৎসকরা বলছেন, স্ক্রিনিংয়ের মধ্যে রয়েছে ফিকাল ইমিউনোকেমিক্যাল টেস্ট (Fecal Immunochemical Test বা FIT), ফিকাল অকাল্ট ব্লাড টেস্ট (Fecal Occult Blood Test বা FOBT), স্টুল ডিএনএ টেস্ট (Stool DNA Test), কোলনোস্কোপি (Colonoscopy) এবং সিগময়ডোস্কোপি (Sigmoidoscopy)। বিশেষ করে কোলনোস্কোপিতে পুরো কোলন পরীক্ষা করা যায় এবং প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গেই পলিপ অপসারণ (Polypectomy) করা সম্ভব।
রোগ ধরা পড়লে ইমেজিং (Imaging) ও বায়োপসির (Biopsy) মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে পলিপ সরিয়েই চিকিৎসা সম্ভব। তবে রোগ বাড়লে কোলেক্টমি (Colectomy) অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে, যেখানে কোলনের আক্রান্ত অংশ কেটে বাদ দেওয়া হয়।
বিশ্বজুড়ে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম কারণ এই কোলোরেক্টাল ক্যানসার। ভারতে (India) সংখ্যাও বাড়ছে। চিকিৎসকদের তাই স্পষ্ট বার্তা, লক্ষণ বাড়ার অপেক্ষা না করে সময়মতো পরীক্ষা করান। তাতেই বাঁচতে পারে জীবন।